একনেক সভায় ৩০ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন

166

যুগবার্তা ডেস্কঃ দেশের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জনের জন্য মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার প্রদান করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তাদের যথাযথ পরিকল্পনার আওতায় প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বিশ্বমানে উন্নীত করে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা সম্ভব। চলমান ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো মানব সম্পদের উন্নয়ন এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপিএটিসি মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আধুনিক অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের সুবিধাদি বৃদ্ধির মাধ্যমে বিপিএটিসির প্রশিক্ষণ প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ; এবং বিসিএস কর্মকর্তাদের বিপিএটিসিতে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার একনেক সভায় “বিপিএটিসি’র প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপিএটিসি’র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ; ডরমিটরি ভবন নির্মাণ; ক্যাফেটরিয়া ভবন নির্মাণ; মেডিক্যাল সেন্টার নির্মাণসহ আরো অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা দেশের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জনের জন্য মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে বলে জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।
এদিকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য বাপবিবো কর্তৃক দেশের পূবাঞ্চল (ঢাকা,ময়মনসিংহ,চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) এবং পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী,রংপুর,খুলনাও বরিশাল বিভাগ) এর জন্য ২টি উন্নয়ন প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সারাদেশব্যাপী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম গ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ সরকারের রুপকল্প-২০২১ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ঢাকা ,ময়মনসিংহ,চট্টগ্রামও সিলেট বিভাগে ৩৯,১০০ কি:মি: বিতরণ লাইন নির্মাণের জন্য “শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ )-” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যেখানে ১৩ লক্ষ ৭০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে। এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকল্প এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিতকরণ।
অপরদিকে আজকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলির মধ্যে আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে “শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়ননের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) প্রকল্প। এ প্রকল্পেরটির মাধ্যমেও প্রকল্প এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিতকরণ করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজশাহী, রংপুর, খুলনাও বরিশাল বিভাগ ৩৮,০১০ কি:মি: বিতরণ লাইন নির্মাণ করে ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে।
“আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চারলেন জাতীয মহাসড়কে উন্নীতকরণ” প্রকল্পটি আজকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অন্যতম আরেকটি। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আশুগঞ্জ, সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলা এটির প্রকল্প এলাকা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আশুগঞ্জ নদীবন্দর- সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কটি আশুগঞ্জ নদীবন্দরকে আখাউড়া স্থলবন্দরের সাথে সংযুক্ত করবে। এই সড়কের দৈর্ঘ্য ৫০.৫৮ কি:মি:। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দেশের অভ্যন্তরে পণ্যসামগ্রী ও যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা সহজতরণ এবং উপ- আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্পের আওতায় সড়কটিকে সহ ৪-লেনে উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিবেচ্য প্রকল্পের আওতায় আশুগঞ্জ নদীবন্দর হতে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক যোগাগোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্য চারটি সড়কাংশ উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আশুগঞ্জ নদীবন্দর হতে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০.৫৮ কিলোমিটার সড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ; ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এবং উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন।

জামালপুর-মাদারগঞ্জ ও জামালপুর-ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়ক দুইটি জামালপুর শহরের মধ্য দিয়ে জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-জামালপুর জাতীয় মহাসড়কের সাথে মিলিত হয়েছে। এই মিলনস্থলে গেইটপাড় নামক এলাকায় একটি অপ্রশস্ত রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং রয়েছে। উক্ত লেভেল ক্রসিং ব্যবহার করে মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ এবং জামালপুর সদরের জনসাধারণকে ঢাকার সাথে যোগাযোগ করতে হয়। ফলে ট্রেন চলাচলের সময় জামালপুর শহরের গেইটপাড় এলাকায় সার্বক্ষণিক যানজট তৈরী হয়। এ সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে আজকের একনেকে “জামালপুর শহরের গেইটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ” প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাট জেলা সড়কটি উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা ও পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার সাথে বিভাগীয় শহর বরিশালের নিরাপদ ও নিরবিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে “চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ (জেড-৮৭০১)”প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১০৪.৭৭ কোটি টাকা। এটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া উপজেলা এবং বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা এর প্রকল্প এলাকা।

আজকের একনেকে অনুমোদিত আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধাদি সম্প্রসারণ; যানজট হ্রাস ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং পথচারীদের চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে “ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন” প্রকল্প। এবং অপরটি হলো বাংলাদেশ হাইকমিশন, ব্রুনাই তে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ ও বসবাসের জন্য উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি; বর্তমান চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা; এবং বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে “বন্দরসেরি বেগওয়ানে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ও হাইকমিশনারের বাসভবন নির্মাণ” প্রকল্প।
          আজকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৯তম একনেক সভায় মোট ব্যয় ৩০ হাজার ৩৪৩ কোটি ২২২ লক্ষ টাকা। সভায় নতুন ও সংশোধিত মোট ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় এর মধ্যে জিওবি ২৫ হাজার ৯০৪ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার ৪০৪ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা।
          আজকের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একনেক শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।