একনেক সভায় ২ হাজার কোটি টাকার ৬ প্রকণ্পের অনুমোদন

যুগবার্তা ডেস্কঃ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় “আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)” প্রকল্প এবং“ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন” প্রকল্পসহ ১ হাজার ৯৫ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে । এর মধ্যে জিওবি ৬৭৪ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪২০ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা। ৬টি (নতুন) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় শেরে বাংলানগরে এনইসি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয় ।একনেক সদস্যবৃন্দ,মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ,প্রতিমন্ত্রী এবং সচিববৃন্দ, পরিকল্পনা সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ।
সভাশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শক্তিশালী দেশগুলোর অধিকাংশই মন্দা অতিক্রম করছে । যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি খারাপ যাচ্ছে । চায়না , সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার প্রবৃদ্ধিও খুব একটা ভাল যাচ্ছে না । এ পরিস্থিতিতে আমাদের প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রান্তিক জনগোগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মুলস্রোতধারায় সম্প্রক্ত করতে হবে । এ জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অধিকহারে ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে । তিনি জানান ,ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে বিশেষ করে সেভেন স্টারের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে রেল যোগাযোগ বাড়াতে “আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে । তিনি বলেন ,ভৈরব নদীটির উৎস নদী “মাথাভাঙ্গা নদী” চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলা হতে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে ভৈরব নদীর উৎসে প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে ভৈরব নদীতে জোয়ার বাহিত পলি জমে এর নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং নদীটি ভরাট হওয়ার পাশাপাশি প্রসস্ততাও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে ওডগ কর্তৃক ভৈরব নদীর নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী ভৈরব নদী পুনঃখনন অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে ।
আজকের সভায় অনুমোদিত ৬টি প্রকল্প হচেছ “ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন” প্রকল্প । এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭২.৮২ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।
“কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে পোল্ডার নং-৬৮ এর সী-ডাইক অংশে বাঁধ পুনঃনির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন” প্রকল্প।এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১০৬.১৬ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।
“চট্টগ্রাম জেলার বাপাউবো’র আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের পোল্ডার নং ৬১/১ (সীতাকুন্ড), ৬১/২ (মীরসরাই) ও ৭২ (সন্দ্বীপ) এর বিভিন্ন অবকাঠামোসমূহের ভাঙ্গন প্রতিরোধ, নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য পুনর্বাসন” প্রকল্প।এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৯৫.৪০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।“নগর ভিত্তিক প্রান্তিক মহিলা উন্নয়ন (২য় পর্যায়)” প্রকল্প।এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৬.১০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।“আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)” প্রকল্প।
এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৭৭.৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৫৭.০৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪২০.৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্প সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা ভারত এবং“ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ (৮-১১)(৩ পর্ব)” প্রকল্প।এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৭.১৩ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা সচিব তারিক উল ইসলাম , পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম ,খুরশেদ আলম চৌধুরী , জুয়েনা আজিজ , আব্দূল মান্নান এবং এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।