Home রাজনীতি এই মৃত্যুর দায়ও সরকারকেই নিতে হবে–বিএনপি

এই মৃত্যুর দায়ও সরকারকেই নিতে হবে–বিএনপি

46

সুব্রত সানা: সরকারের অপরিকল্পিত চলমান লকডাউনে বাংলাদেশের জনপদে নিরন্ন ও বুভুক্ষ মানুষের আহাজারীতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দিনমজুর ও নিন্ম আয়ের মানুষ।লকডাউনে কাজ না থাকায় ছেলে-মেয়েদের মুখে ভাত তুলে না দিতে পেরে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর মুক্তারপুর এলাকায় নিজ বাড়ীতে দিনমজুর দ্বীন ইসলাম আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। নির্মম ও বেদনাদায়ক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ জুলাই দুপুরে। অথচ সরকারের মন্ত্রী-কর্মকর্তারা হরহামেশাই বলে যাচ্ছেন-তারা পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন, কেউ না খেয়ে নেই, না খেয়ে মারা যাবে না কেউ, ইত্যাদি ইত্যাদি। মুক্তারপুরে দ্বীন ইসলামের মতো দেশের অগণিত মানুষ এধরণের নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখী। এই দায় কার ? অবশ্যই এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। শুধু তাই নয়, সরকারের অব্যবস্থাপনা, ভ্রান্ত নীতি ও অবহেলা-উদাসীনতায় করোনা চিকিৎসায় যে সংকট দেখা দিয়েছে, অক্সিজেনের অভাবে প্রতিদিনই মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, এই মৃত্যুর দায়ও সরকারকেই নিতে হবে।বিএনপির দফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজ এক প্রেস ব্রিফিং এ একথা বলেছেন।
তিনি এ সময় বলেন, বিএনপি বারবার বলেছে-করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে গণটিকা ছাড়া এই মহামারী মোকাবেলা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে লাভবান করার জন্য একটি মাত্র উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে বিপাকে ফেলেছে, জনগণের জীবন-জীবিকা-কে বিপন্ন করে তুলেছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভুল সিদ্ধান্ত, সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ না নেয়া, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে অক্ষমতা এবং সার্বিক অদক্ষতা ও অযোগ্যতার জন্য পরিস্থিতি আজ লেজে-গোবরে তথা হযবরল অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে। আমরা আগেই বলেছি-এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকার বারবার সাধারণ ছুটি, বিধি-নিষেধ, কঠোর বিধি-নিষেধ, লকডাউন, সীমিত লকডাউন, কঠিন লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে এসব পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে না, বরং জনগণের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। আমরা বারবার এও বলেছি যে, রাজনৈতিক ও সামাজিক তথা জনগণকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া কোন পদক্ষেপই সফল হয় না। লকডাউনে সমাজের যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়-অর্থাৎ নিম্ন আয়ের দিন আনে দিন খায় মানুষ, বেকার-কর্মহীন মানুষের দু’মুঠো ভাতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়া এসব পদক্ষেপ কার্যকর হয় না। যার ফলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সম্ভব তো হচ্ছেই না, বরং জনগণের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।