উৎসবের রঙে সারা দেশে বর্ষবরণ

65

সূর্যোদয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর ১৪২৩। পুরনো বছরকে বিদায় জানো শেষ আগের দিনই। ভোরের নরম আলোয় নতুন বছরকে স্বাগত জানায় সমগ্র দেশ। শুরু হয় নতুন বছরকে বরণ করার নানা আয়োজন। ধর্ম-বর্ণ ও বয়সের ঊর্ধ্বে ওঠে সবাই মিলে গেলো এক সংস্কৃতির পরিচয়ে।
আনন্দের রঙ ছড়িয়ে এসেছে ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। বছরের প্রথম দিনটি রাজধানীসহ সারা দেশে উদযাপন করা হয় আনন্দ-উৎসবে। দেশের কোথাও কোনো অপ্রীতক ঘটনা ঘটেনি। প্রচ- রোদ আর তীব্র গরমে এবারের বৈশাখ উৎসব পালন হয়েছে। আর সঙ্গে ছিলো কঠোর নিরাপত্তা। রমনা থেকে টিএসসি এবং রাজধানীর অন্য অনুষ্ঠান কেন্দ্রগুলো ছিলো কঠোর নিরাপত্তা নজরদারিতে। অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে ছিলো কিছু বিভ্রান্ত। এসব কারণে গত বছরের তুলনায় অনুষ্ঠানগুলোতে লোক সমাগম ছিলো কিছুটা কম।
বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়িত রূপ ফুটে ওঠে সব উৎসবে। প্রথা অনুযায়ী, নববর্ষকে বরণ করে নিতে রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের অনুষ্ঠান। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসোৃ এই সুরের মুর্ছণায় বর্ষবরণের ঢেউ লাগে বাঙালি মানসপটে। বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো মা-শিশুর মমতাময় বন্ধন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে রাজধানীর মূল অনুষ্ঠান ছিলো ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে। এখানে এসে এক মোহনায় মিলিত হয় সব স্তরের মানুষ। ‘আলোকিত বৈশাখ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয় এক সংগ্রামশীল জাতির প্রতি”ছবি।
বৈশাখী উৎসবের দেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলা। মেলাতে রয়েছে, নানা রকম কুঠির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, রয়েছে নানা রকম পিঠা পুলির আয়োজন। পুরনো সংস্কৃতির খেলাধুলারও আয়োজন করা হয়ে গ্রামেগঞ্জে। অনেক জায়গায় আবার যাত্রাপালা, বাউল গান, কবি গানেরও আয়োজন করা হয়েছে। চলবে রাতেও।
এবারের বৈশাখে সরকারি ও বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান বোনাস দেওয়ায় দোকানীদের বেচাকেনা ভালো ছিল। দোকানীদের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যার পরেও যদি টিএসসিতে মানুষের সমাগত থাকত তাহলে বেচাকিনা আরো ভাল হত। কিš‘ দুঃভাগ্য সন্ধ্যা ৫টার মধ্যে সকল মানুষকে টিএসসি থেকে চলে যেতে হবে।
ময়মনসিংহ: লালপাড়, সাদা শাড়ি। ঢাক-ঢোলের শব্দ। হাতপাখা, কুলাসহ নানা দেশীয় উপকরণ। সেই সঙ্গে নানা সাজে তুলে ধরা হয় আবহমান বাংলার সংস্কৃতি। সকালে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজন করে এই বর্ণাঢ্য র‌্যালির। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহে পহেলা বৈশাখে অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করতে জড়ো হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুণ্যার্থীর ভিড়ে মুখরিত ব্রহ্মপুত্রের তীর।
খুলনা: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার। শান্তির প্রতীক পায়রা ছিলো এবারের শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ। শোভাযাত্রার পর আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। এসময় সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
সিলেট: সিলেটে ব্লুবার্ড স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে শুরু হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। শতকণ্ঠে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। গানে গানে ছড়িয়ে পড়ে মঙ্গল বারতা।
এছাড়া সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে আলাদা শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী: ভোরের আলো ফুটতেই রাজশাহীতে নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নববর্ষের আয়োজন। বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করে শোভাযাত্রার।
বগুড়া: নাশকতার আশঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে বগুড়ায় বর্ষবরণ ও বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা পুলিশ।
জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করে। বগুড়ায় ৫দিন ব্যাপী মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, লাঠি খেলা, পালাগান, লালনগীতি, লোক সংগীত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
ফেনী: ফেনীতেও বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে।
পুরাতন সব গ্লানি মুছে, মঙ্গলময় ভবিষ্যত কামনা করে শেষ হয় সব আয়োজন।