উন্নয়নের নামে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের পরিণতি সরকারকেই বহন করতে হবে-সিপিবি

96

রাজধানীর কল্যাণপুর পোড়া বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

তারা বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে গ্রামের গরিব মানুষরা জীবিকার প্রয়োজনে রাজধানীতে এসে বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। কায়িক শ্রমের মাধ্যমে এরা শহরকে সচল রেখেছে। গার্মেন্ট, পরিবহনসহ অন্যান্য শিল্পকে অগ্রসর করে নিচ্ছে। স্থানীয় সংসদের লোকেরা বারবার কল্যাণপুরের এ বস্তিকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ, হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় সংসদের লোকজন উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়। বেলা সাড়ে ১২ টায় দেয়া হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশের কারণে উচ্ছেদে ব্যর্থ হয়ে শুক্রবার সকালে বস্তিতে আগুন দিয়ে তারা তা আংশিক পুড়িয়ে দেয়। ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীদের তারা আগুন নেভাতে বাধা দেয়।

তারা বলেন, গ্রামের এই গরিব মানুষরা বা তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছে। পাকিস্তানী সেনাদের হাতে তাদের স্বজনরা জীবন দিয়েছে। পাকিস্তানী সেনারা আগুন দিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছিল। সেই গ্রামের নিঃস্ব মানুষরা শহরের বস্তিতে বাস করেও শান্তিতে নেই। উন্নয়নের নামে আজ তাদের বস্তির ঘর মুনাফালোভী শোষক গোষ্ঠীর আগুনে পুড়ছে। বস্তির জায়গায় বহুতল ভবন বানানোর জন্যই বারবার পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এই বস্তি।

তারা বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র তার নির্বাচনী অঙ্গিকারে ঢাকাকে মানবিক করতে চেয়েছিলেন। আগুনে পুড়িয়ে তার এলাকার মানুষদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, অথচ তিনি নির্বিকার।

তারা বলেন, কল্যাণপুর বস্তি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন করা হয়েছিল। মহামান্য আদালত কর্তৃক প্রদত্ত স্থগিতাদেশ নির্দেশ অমান্য করে কল্যাণপুর বস্তি বারবার উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। গণবিরোধী উন্নয়ন নীতির কারণেই বারবার এ ঘটনা ঘটছে।

তারা হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, ধনিকগোষ্ঠীর স্বার্থে গরিব মানুষদের উচ্ছেদের পরিণতি ভাল হবে না। এর সকল দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।