উত্তরবঙ্গে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

রাজশাহী অফিস : উত্তরবঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহনে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেন ট্রাক মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সাত দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উত্তরবঙ্গে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। শুক্রবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগীয় কমিশনার আবদুল হান্নান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মনির হোসেন, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশীদ আলম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ট্রাক মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে উত্তরবঙ্গ ট্রাক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাদরুল ইসলাম, রাজশাহী ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মানা, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম, বগুড়া ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে উত্তরবঙ্গ ট্রাক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাদরুল ইসলাম জানান, তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে পাঁচটি মেনে নিয়েছে প্রশাসন। এখন থেকে গাড়ির লাইসেন্স নবায়নে বিআরটিএ যেন হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া মহাসড়কের কোথাও পুলিশও হয়রানি করতে পারবে না। ওজন স্কেলেরও যথাযথ ব্যবহারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। আর ট্রাকের অ্যাংগেল খোলার বিষয়ে আগামী তিন মাস পর ট্রাক মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

তাছাড়া পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহনের ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ও রুট পারমিটের বকেয়া সুদ মওকুফের বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলকে জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বাকি দুই দাবিও বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এরপরই পণ্য পরিবহন ধর্মঘট তুলে নেয়া হয়েছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক আছে।

ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপে বাম্পার, সাইড অ্যাঙ্গেল ও হুক অপসারণের জন্য মালিকদের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এর বাস্তবায়ন না করে ১ ডিসেম্বর থেকে পণ্য পরিবহনে ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল।

ফলে উত্তরবঙ্গের স্থলবন্দরগুলো থেকে সারা দেশের পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়তে হয় রাতে চট্টগ্রাম-ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী যানবাহনের চালক-শ্রমিককে।