উজিরপুর-বানারীপড়া আসনে নৌকার মাঝি হতে চান বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিব খান

কল্যাণ চন্দঃ বরিশাল-২ আসনে দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠে আছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান খান। ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত হাবিব খান বরিশাল–২ (উজিরপুর-বানারীপড়া) আওয়ামীলীগ তথা সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে অন্যরকম গ্রহণযেগ্যতা। দলিয় মনোনয়ন চাওয়া প্রশ্নে একেবারে উড়ে এসে জুড়ে বসা কেউও নন তিনি। হাবিব খানের রয়েছে ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস। স্কুল জীবন থেকেই তার ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে হাতে খড়ি। ১৯৬৫ সালে আইউব খান বনাম ফাতেমা জিন্নাহ নির্বাচনে তিনি ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি বানারীপাড়ার চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে জিএস নির্বাচিত হন। ওই বছর ও ১৯৬৯ সালে তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৭০ সালে তিনি বানারীপাড়ার চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতিও ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বানারীপড়া, উজিরপুর ও স্বরূপকাঠি অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার হিসেবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি এসব এলাকায় ইপিআর, পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের জন্য সংগঠিত করতেও ভূমিকা পালন রাখেন। ওই সময় হাবিব বাহিনী গঠন করা হয়। ১৯৭২-১৯৭৩ সালে তিনি উজিরপুর উপজেলা ছাত্র লীগের প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫আগষ্ট অচিন্তনীয় বিয়োগান্তক অধ্যায়ের কালরাতের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সমগ্র বাংলাদেশের ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে যে তিনটি সেল গঠন করা তার প্রতিটি সেলের সদস্য হিসেবে তিনি ছাত্রলীগ কে সংগঠিত করে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠিক বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গরে তোলেন। ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবী করে সর্ব প্রথম যে মিছিল হয়েছিলো তা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন ও মিছিল পূর্ব বট তলার সমাবেশ পরিচালিত করেন। পরে তারা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নেন। ১৯৭৮-৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র লীগের (কাদের-চুন্নু) কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধক্ষ’র দায়িত্ব পান। ওই সময় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তার ওপর আহ্বায়কের দায়িত্ব অর্পন করা হয় । ১৯৭৯ সালে অবৈধ ক্ষমতাসীন জিয়াউর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন কে কেন্দ্র করে সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শণ ও তার আগমনকে প্রতিহত করার পাশাপাশি জিয়াউর রহমানকে শারীরিকভাবেও তিনি লাঞ্চিত করেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে জিয়াউর রহমানের সরকারী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও এন এস আই এর যৌথ অভিযানে হাবিবুর রহমান খান গ্রেফতার হন। তাকে চোখ বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে ১৯৮০ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এর পর জিয়াউর রহমানের নানা প্রলোভন কে উপেক্ষা করে তিনি জার্মান চলে যান। ১৯৮৪ সালে তিনি দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ বানারিপাড়ায় শেখ হাসিনার জন সভায় বাঁধা প্রধান করলে জনসভা সফল করতে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন রাখেন। ১৯৯০ সালে তিনি নিজ উদ্যোগে শেখ কামাল পরিষদ গঠন করে এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পান। এবার তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপড়া) আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রার্থী। সেই লক্ষে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে প্রায় সর্বত্র তিনি নৌকার পক্ষে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। করেন পথসভা এবং যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দ্বাকে দ্বারে। বরিশাল-২(উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নের আশায় মাঠে থাকা প্রায় হাফ ডজন নেতার মধ্যে হাবিবুর রহমান খান অন্যতম। তার ঐকান্তিক বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে তার ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে। দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনটি তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি শোষণ-বৈষম্যহীন,ক্ষুধা,দারিদ্র,সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনারবাংলা ও শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে ভূমিকা পালণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।