উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের রোষানলে পরে মনোনয়ন বঞ্চিত দুই চেয়ারম্যান উর্মিলা ও খালেক রাড়ি ভোট যুদ্ধে

184

বরিশাল প্রতিনিধি :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আ’লীগের মহা ক্ষমতাধর ও বিতর্কিত নেতা হাফিজুর রহমান ইকবালের রোষানলে পরে মনোনয়ন বঞ্চিত আ’লীগের ত্যাগী নেতা ও জনপ্রিয় দুই ইউপি চেয়ারম্যান জল্লার উর্মিলা বাড়ৈ ও ওটরার খালেক রাড়ী নিজ ইউনিয়ন থেকে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করে প্রকাশ্য ভোট যুদ্ধে মাঠে রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের মনোনয়ন পত্র বৈধ বলেও ঘোষিত হয়েছে। উজিরপুরে ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন হলেও এখন সবার দৃষ্টি ওই দুই প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকা জল্লা ও ওটরা ইউনিয়নের দিকে। তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়া নির্বাচনকে আরও উৎসব মুখর করেছে। তারা দুজনেই নিজ নিজ এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। জনগনের নানা চাপের মুখে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেও নির্বাচিত হতে পারলে দলের সাথেই থাকবেন বলে তারা জানিয়েছেন। জল্লার ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি উর্মিলা বাড়ৈ’র সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের বিরোধ অনেক পুরনো। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২ মাষে কয়েক দফা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। হাফিজুর রহমান ইকবাল তার ঘনিষ্ঠজন বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে গিয়ে উর্মিলা বাড়ৈকে বেশ কয়েকবার লাঞ্চিত করেছেন এবং এ কারনে ইকবাল গত ২ মাষে বহুবার প্রত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয়েছেন। টানা ২ বারের নির্বাচিত জল্লার চেয়ারম্যান উর্মিলাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করে দল থেকে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ জল্লার সাধারন মানুষ অসহায় নারী চেয়ারম্যান উর্মিলাকে এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দেন। জনগনের চাওয়ায় সে প্রার্থী হয়েছেন। উর্মিলা অভিযোগ করেন ইকবাল উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই আমাকে বিভিন্ন রকমের অপদস্ত করে এবারের নির্বাচনে আমি যাতে অংশ না নেই সেজন্য সে আমাকে গালিগালাজ সহ নানা রকম হুমকি দেয়। সর্বশেষ তার হাতে যে মেকানিজম ছিল তা দিয়ে তার ক্যাডার হিসাবে পরিচিত বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে মনোনয়ন এনে দিয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের নিজ ইউনিয়ন ওটরায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক রাড়ীর সাথে তার বিরোধ ৫/৬ মাস যাবৎ। ইকবাল উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার ছেড়ে দেয়া পদটিতে উপ নির্বাচনে খালেক রাড়ি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। খালেক রাড়ি ১৭ মাস দ্বায়িত্ব পালন কালে এলাকার সমস্যা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ কারনে উপজেলা চেয়ারম্যান তার প্রতিপক্ষ খালেক রাড়ীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য ঘনিষ্ঠজন হিসাবে পরিচিত অধ্যক্ষ শাহাদাৎ হোসেনকে মনোনিত করে দলীয় মনোনয়ন এনে দেন। এতে ওটরায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। মনোনয়ন দাবীতে খালেকের সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন। কর্মী সমর্থকদের চাপের মুখে সে লোকজন নিয়ে মনোনয়ন দাখিল করে উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবালকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। খালেক রাড়ি জানিয়েছেন হাফিজুর রহমান ইকবাল ওই ইউনিয়নটি নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য এবং লুটপাট করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মনোনয়ন বঞ্চিত করেছেন। তিনি চেয়ারম্যান দ্বায়িত্ব পালনকালে ১৫ মাসে যে উন্নয়ন করেছেন তা ইকবাল দীর্ঘসময় চেয়ারম্যান থেকেও করতে পারেনি। আমি তাকে উৎকোচ না দেয়ায় সে অপরিচিত মুখকে মনোনয়ন দিয়ে ভোট ডাকাতির চিন্তা করছেন। জনগনকে সাথে নিয়ে আমি প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। নির্বাচিত হয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করবো। উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সাথে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ০১৭১১৩২১৯৩৫ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।