উজিরপুরে হিন্দু সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের শেষ ভরষা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ

বরিশাল অফিসঃ সরকারী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কাটাগাছ তলার মেলার শীতলা মন্দির,সার্বজনীন দূর্গা ও কালী মন্দির,মুক্তিযোদ্ধার সমাধী সহ অধিকাংশ হিন্দু সহ প্রায় ৩০টি পরিবারকে উচ্ছেদের নীল নকসা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৌশলে চুরান্ত করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনা বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ও পৌর সদরের প্রানকেন্দ্র কুমারবাড়ি বাজারের।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মধু মঙ্গল ব্রক্ষ্ম’ ও তার সহধর্মীনি আলো রানী ব্রক্ষ্মর সমাধী রক্ষার্থে তাদের সন্তান বিপ্লব কুমার ব্রক্ষ্ম,তাপস ব্রক্ষ্ম ও শিশির কুমার ব্রক্ষ্ম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সম্পাদক সৌভিক মিত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বজনীন দুর্গা,কালী ও শীতলা মন্দির সহ কুমারবাড়ি বাজারে বসবাসরত অধিকাংশ হিন্দু সহ প্রায় ৩০টি পরিবার ও প্রায় ১৫টি ক্ষুদ্র ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ না করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে ফেইজবুক ষ্টাটাসের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।
কুমারবাড়ি বাজারে বসবাসরত প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মধু মক্সগল ব্রক্ষ্মের পূত্র তাপস ব্রক্ষ্ম জানিয়েছেন এই মাটিতেই রাষ্ট্রিয় মার্যাদায় গার্ড অফ অর্নার দিয়ে তার পিতার অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্মন্ন করা হয়েছিলো,তার পিতা-মাতার সমাধী সহ তাদের মাথাগোজার একমাত্র ঠাইটুকুও এই মাটিতেই।
এছাড়াও কুমারবাড়ি বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের চাল চুলোহিন কিছু পরিবার বসবাস করেন,যাদের নুন আনতে পানতা ফুরিয়ে যায়। এ শ্রেনীর পারিবারগুলোকে উচ্ছেদ করলে তাদের রক্ষায় দারোনোরও কোন উপায় থাকবেনা। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা সৌভিক মিত্র,তাপস ব্রক্ষ্ম ও কাজী কামরুল ইসলাম ও আশিষ কুমার দাস জানিয়েছেন উজিরপুরের একটি কুচক্রি মহল সরকারী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জেলা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে উজিরপুরের পৌর সদরের প্রানকেন্দ্রের উজিরপুর মৌজার জে,এল ৯২ নং এস,এ, ৪৬৬ নং খতিয়ানের ৭৩৯নং হাল দাগের ১ একর ৫০ শতাংশ জমিতে থাকা লোকজনদের উচ্ছেদ করে পরবর্তিতে তারাই ওইজমি ভোগদখল করবে।
অন্যদিকে সেখানে বসবাস কারিরা ১৯৯৭ সালে বরিশালের সহকারী জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মকর্দ্দমা ১৫/১৯৯৭ দায়ের করলে ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর সহকারী জজ মোঃ আছাদুজ্জামান বাদীপক্ষে ম্যান্ডেটরি ইনজাংশন প্রদান করেছিলেন এবং সরকারকে ওইস্থানে অর্থবরাদ্দ সাপেক্ষে শুধুমাত্র হাট-বাজার উন্নয়নের জন্য নির্দেশ প্রদান করা আছে কিন্তু সেখানে কোন সরকারী বা বে-সরকারী কোন কার্যালয়ের জন্য ভবননিমার্নের কোন আদেশ নেই।
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আহসান হাবিব গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুমারবাড়ি বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এসে স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী মোঃ জাকির হোসেন ও মোঃ বক্কার খান সহ কয়েকজনকে তহসিলদার মোঃ কবিরুল ইসলামকে দিয়ে ডেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সকল জমি থেকে বসতি ঘর সহ অন্যান্য সকল স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য মৌখিক ভাবে নির্দেশ দেন এবং উপস্থিত লোকজন তারকাছে সরকারী নোটিশ চাইলে তিনি তার মৌখিক নির্দেশকেই নোটিশ মনেকরে স্থাপনা সরানোর জন্য বলে যান বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আহসান হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান এখানে একটি ভুমি অফিস নির্মানের জন্য অর্থবরাদ্দ করা হয়েছে এবং ওই জমিতে বসবাস কারিদের উচ্ছেদ করার জন্য আইনগত কোন বাধা নেই বা কোন আদালতেরও কোন স্থগিতাদেশ নেই,একারনেই স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার মিটিংকরে তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই উচ্ছেদের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভুমি)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝুমুর বালা বলেন সরকারী জমিতে সরকারী ভবন নির্মান করা হবে,এজন্য সরকার অর্থও বরাদ্দ করেছে,ফলে সরকারী নির্দেশের ব্যাতিরেকে আমার কিছু করার নেই।
অন্যদিকে কুমারবাড়ি বাজারে বসবাসকারিরা তাদেরকে মাথাগোঁজার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে না নেওয়ার জন্য শেষ ভরষা হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানিয়েছেন।