উজিরপুরে রিটার্নিং অফিসার উৎকোচ নিয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্রহন করলেন মনোনয়নপত্র, ইউএনও বললেন বে-আইনি নয়

69

বরিশাল প্রতিনিধিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জল্লা এবং ওটরা ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নি অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অলি আহাদ সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত সাধারন সদস্য প্রার্থীদের নিকট থেকে উৎকোচের বিনিময়ে মনোনয়ন পত্র গ্রহন করেছেন এবং রাত ১১ টা পর্যন্ত শতশত মানুষ তার অফিসের সামনে দারিয়ে মনোনয়ন পত্র গ্রহনের দাবী এবং বে-আইনি কাযের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন রাত সারে ৯ টা পর্যন্ত নিজে দারিয়ে থেকে বাধা দিয়েও কোন প্রতিকার করতে ব্যার্থ হয়েছেন।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ ঘটনা শুনে রাত সারে ৮টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝুমুর বালা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক ঘটনা অবহিত হয়ে এটা কোন অন্যায় বা বে-আইনি কাজ নয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অলি আহাদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের জল্লা ও ওটরা ইউনিয়নের মোট কত জন চেয়ারম্যান,সংরক্ষিত নারী ও সাধারন সদস্য পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তার সুনির্দিস্ট তালিকা জানাতে পারেননি, ফলে ওই দুই ইউনিয়নে মোট কতজন প্রার্থী প্রতিদন্দিতা করবেন তার সঠিক তথ্য মঙ্গলবার রাত নাগাদ মিলতে পারে বলে নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তবে এঘটনা তিনি তাৎক্ষনিক ভাবেই বরিশাল জেলা নির্বাচন অফিসার ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে টেলিফেনের মাধ্যমে মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন বলেও তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন।
জল্লা এবং ওটরা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটার্নি অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অলি আহাদ সকাল সারে ৯টায় প্রথমে জল্লা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈর মনোনয়নয়ন পত্র গ্রহনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করে বেলা ২ টা পর্যন্ত ওটরা ও জল্লা ইউনিয়নের শুধুমাত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র গুলো গ্রহন করে তার কক্ষ বন্ধ করে তিনি দুপুরের খাবার খেতে বাসায় চলে যান, প্রায় ২ ঘন্টা পরে ( বিকাল ৪টার কিছু পরে) তিনি ফিরে এসে অপেক্ষমান সকল সাংবাদিকদের তার অফিস থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেন এবং তিনি নিজেই সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে সংরক্ষিত নারী ও সাধারন সদস্যদের কাছ থেকে বকসিসের নামে ৩’শ,৪’শ,৫’শ টাকা করে উৎকোচ গ্রহন শুরু করেন এবং এর মধ্যে মনোনয়ন পত্র গ্রহনের শেষ সময় বেলা ৫ টা বেজে যায়। এ অবস্থায় প্রতিবাদী কয়েকজন সাধারন সদস্য পদে মনোনয়ন পত্র জমাদান কারী প্রার্থীদের মধ্যে জল্লা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রুপচাঁদ বালা,ওটরা ইউনয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাদের ২/৩ ঘন্টা অহেতুক বসিয়ে রেখে সময় ক্ষেপন করে এখন রাতে উৎকোচ নিয়ে বে-আইনিভাবে আমাদেরকে হয়রানি করছে। পরে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহ তার অফিসের জনবল দিয়ে কাজ করেও সঠিক প্রার্থীদের সঠিক তালিকা তৈরী করতে পারেননি, ফলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্তও কোন তালিকা পাওয়া যায়নি, এ অবস্থায় ওই দুই ইউনিয়নের প্রতিদন্দি সকল প্রার্থীরাই মারাত্মক ভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও রিটার্নি অফিসার অফিসার অলি আহাদ নিজেকে নির্দোশ দাবী করে বলেন আমি কারো কাছ থেকে কোন উৎকোচ বা বকসিস নেইনি, বেলা ৫টার পরে যারা আমার বাউন্ডারির মধ্যে ছিলেন আমি শুধু তাদেরই মনোনয়ন পত্র গ্রহন করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন সাংবাদিক ও উৎকন্ঠিত প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন উদভ¦বিত ঘটনা আমি সহ আপনারা সকলেই প্রত্যক্ষ করেছেন,আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে মৌখিক ও লিখিত ভাবে জানিয়েছি। উদ্ধর্তন কতৃৃপক্ষ পরবর্তি ব্যাবস্থা গ্রহন না করা পর্যন্ত আমাদের সকলকে ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করতে হবে।