উজিরপুরে দুইশ’ বছরের পুরনো হিন্দু পরিবারকে উৎখাতের জন্য হুমকি

131

বরিশাল অফিসঃ উচ্চ আদালতের নির্দেশ অবমাননা করে প্রায় দুইশ’ বছরের পুরনো হিন্দু পরিবারকে পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানার সহয় সম্পত্তি থেকে উৎখাতের জন্য একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের হুমকির মুখে অসহায় ওই হিন্দু পরিবারটি এখন চরম আতংকের মাঝে রয়েছেন। ঘটনাটি জেলার উজিরপুর পৌর সদরের।
অভিযোগ রয়েছে, হুমকি দেয়া প্রভাবশালীরা বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় ওই হিন্দু পরিবারের বসত বাড়িসহ পুরো সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর তোপের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলো। বর্তমানে তারা (প্রভাবশালী) উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝুমুর বালাকে ম্যানেজ করে হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি ভিপি তালিকাভূক্ত করিয়ে অতিগোপনে দ্বিতীয় দফায় লিজ (ডিসিআর) নিয়ে দখলে থাকা হিন্দু পরিবারকে উৎখাতের জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে পৌর সদরের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পোষ্ট মাস্টার দেবতোষ চন্দ (৭৮) জানান, উজিরপুর মৌজার জে.এল ৯২ এস.এ ৪১৭, ৪১৮নং খতিয়ানের ৭৩৩ ও ৭৩৪ নং দাগের ১ একর ৬৯ শতক সম্পত্তি তার পৈত্রিক রেকর্ডিয় ভিটা বাড়ি। তাদের সহয় সম্পত্তির ওপর দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিদের লোলুপ দৃষ্টি পরে। তিনি আরও জানান, তার পৈত্রিক সম্পত্তি ভিপি তালিকাভূক্ত না হওয়া সত্বেও ওইসব প্রভাবশালীরা ১৯৮৯ সালে জনৈক মাখম লালের নামে একটি ডিসিআর আনেন। পরে তিনি (দেবতোষ চন্দ) বাদি হয়ে ডিসিআরের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ৩৫/৮৯ নং মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই আদালতের বিচারক বাদির পক্ষে রায় প্রদানসহ একইসাথে ওই জমিতে সরকারের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী ১৮৭/৯১নং আপিল দায়ের করার পর দোতরফা শুনানী শেষে ১৯৯৩ সালের ১ আগস্ট নিন্ম আদালতের ৩৫/৮৯ নং মামলার রায় বহাল রেখে আপিল মামলাটি খারিজ করে দেয়া হয়।
দেবতোষ চন্দ আরও জানান, পরবর্তীতে সরকার পক্ষে তৎকালীন ইউএনও উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মাহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন নং ৪৯ (কনঃ) ১৯৯৫ দায়ের করেন। দোতরফা শুনানী শেষে নিন্ম আদালতের আদেশ বহাল রেখে ১৯৯৭ সালের ২৯ মে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। ফলে আইনগতভাবে সরকারের এই জমিতে প্রবেশের আর কোন সুযোগ না থাকলেও হাইকোর্টের আদেশ অবমামনা করে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে ২০১২ সালে তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন হিন্দু পরিবারের পুরো সম্পত্তি প্রকাশিত “ক” গেজেটে তালিকাভূক্ত করেন। “ক” গেজেট থেকে অবমুক্তির জন্য তিনি (দেবতোষ চন্দ) অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে ভিপি ১৪/১৪ নং মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে স্বাক্ষী চলছে এবং সেই সাথে একই আদালত গত ২১ মে সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষ্টাটাসকোর আদেশও জারি করেন । এ অবস্থায় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে উজিরপুর উপজেলার বর্তমান ইউএনও ঝুমুর বালা গত ৪ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই হাওলাদারের পুত্র জাহিদুর রহমানের কাছ থেকে ১৩৯৭ বাংলা সাল থেকে ১৪২৪ সাল পর্যন্ত বকেয়া লিজমানি বাবদ ২১ হাজার সাতশ’ টাকা গ্রহণ করে তার নামে হিন্দু পরিবারের সম্পত্তির ৩৫ শতক, একইভাবে এনায়েত হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগমের নামে একই অর্থ আদায় করে ৩৫ শতক ও তরনী কান্তর পুত্র মাখন লালের কাছ থেকে বকেয়া লিজমানি বাবদ ছয় হাজার দুইশ’ টাকা গ্রহণ করে তার নামে ১০ শতক জমি বন্দোবস্ত প্রদান করেন।
কান্নাজড়িতকন্ঠে দেবতোষ চন্দ বলেন, এই সম্পত্তিতে আমার ঠাকুর দাদার ঠাকুর দাদারও শ্মশান রয়েছে। ইউএনও’র কাছ থেকে বন্দোব¯েÍর কাগজ নেয়ার পর থেকে প্রভাবশালীরা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে পুরো পরিবারকে উৎখাত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। আমি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা চাই। এ ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝুমুর বালার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।