উজিরপুরে কিশোরকে দু’দিন আটক করে অমানুষিক নির্যাতন আটককৃতকে উদ্ধার করেছে পুলিশ

176

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে ॥ ভিমরুলের বাসায় ঢিল ছোঁড়ার অভিযোগে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ হারতা গ্রামের এক কিশোরকে দু’দিন আটক করে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ নির্যাতিত কিশোরকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরের মা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে রাত ৭ টায় উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে হারতা দক্ষিণপাড় গ্রামের জয়নাল বেপারীর পুত্র প্রভাবশালী সেলিম বেপারীর ( ওরফে চোরা সেলিম,ওরফে কানা সেলিম,ওরফে জাল দলিল সেলিম,ওরফে গুন্ডা সেলিম,ওরফে স্ব ঘোষিত মহরি সেলিম,) বাড়ি সংলগ্ন স্থানের একটি ভিমরুলের বাসায় ঢিল ছোঁড়ে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর। ফলে কানা সেলিমের একটি গবাদী পশুকে (গরু) ভিমরুল আক্রমন করে। ওইদিন বিকেলে আক্রান্ত গরুটি স্থানীয় মাংস বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। সূত্রে আরও জানা গেছে, ভিমরুলের বাসায় ঢিল ছোঁড়ার অভিযোগে সেলিম ও তার লোকজনে দক্ষিণ হারতা গ্রামের দিনমজুর মেহের আলী হাওলাদারের পুত্র শাহজালাল হাওলাদারকে (১৬) অভিযুক্ত করে। ওইদিন সন্ধ্যায় কিশোর শাহজালালকে ধরে নিয়ে সেলিমের বসত ঘরের বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে আটক করে সেলিম ও তার লোকজনে অমানুষিক নির্যাতন করে। সেই থেকে গত দু’দিন ধরে কিশোর শাহজালালকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। শাহজালালের মাতা হেনারা বেগম জানান, তার পুত্র শাহজালালের রহস্যজনক নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধ্যান মেলেনি। অবশেষে সোমবার বিকেলে তিনি জানতে পারেন সেলিমের বসত ঘরের বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে শাহজালালকে আটক করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
উজিরপুর থানার এ,এস.আই মনির হোসেন ও এ,এস,আই নিজাম জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় তারা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সেলিমের বসত ঘরের (বিল্ডিংয়ের) একটি কক্ষ থেকে কিশোর শাহজালালকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা কিশোর শাহজালালের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ আসার খবর পেয়ে সেলিম ও তার পরিবারের লোকজনে বসত ঘর তালাবদ্ধ করে আত্মগোপন করেন। ওসি মো. নুরুল ইসলাম-পিপিএম জানান, উদ্ধার হওয়া কিশোর শাহজালালকে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া কিশোর শাহজালালের মা হেনারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কিছুদিন পুর্বে কানা সেলিম জামবাড়ি গ্রামের নিতাই হালদার নামক এক নৌকার মাঝিকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে পায়েসের সাথে চেতনা নাশক দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে ৮ টি ষ্ট্যাম্পে নিতাইর স্বাক্ষর নিয়ে তার সকল জমিজমা জ াল দলিল করে নেওয়ার পায়তারা করে দরা পরেছিলো কানা সেলিম। এছারা সে হারতা এলাকার প্রায় অর্ধশত অসহায় পরিবারের জমিজমা জাল দলিল করে নিজ নামে নিয়ে হয়রানি ও ভোগান্তিতে ফেলে দেশছারা করতে বাধ্য করেছে বলে কানা সেলিমের বিরুদ্ধে শত শত মানুষের অভিযোগ আছে।