উজিরপুরে উপজেলা চেয়ারম্যানের নারী ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি

95

বরিশাল প্রতিনিধিঃ
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাক্ষাতকার গ্রহন উপলক্ষে উজিরপুর উপজেলা আ’লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এবার উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ২ বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় নারী চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈকে গালিগালাজ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী না হওয়ার হুমকী দিয়েছেন অপর সহ-সভাপতি ও উজিরপুর উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল। রোববার বেলা ১১ টায় উজিরপুর ডাকবাংলায় এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বার্ধত সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতা ও ৯ ইউনিয়নের সভাপতি সম্পাদক সহ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান এমন প্রায় ৮০ জনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় উর্মিলা বাড়ৈ ও তার প্রয়াত স্বামী জল্লা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অবনি ভুষন বাড়ৈকে নিয়ে ইকবাল গালিগালাজ করতে থাকলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু একাধিকবার নিবৃত্ত করার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে উর্মিলা বাড়ৈ ইকবালের ঔদ্ধত্যপুর্ন আচরেন বর্ধিত সভার মধ্যে প্রকাশ্যেই কেঁদে ফেলেন।
এক পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের সামনে উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি জল্লার ইউপি চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈকে বারবার প্রশ্ন করতে থাকে, আপনি আ’লীগের কে? আর কত আ’লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে খাবেন। অবনি বাড়ৈ আ’লীগের কেউ ছিলনা। সে ছিল সন্ত্রাসী। আ’লীগে তার কোন অবদান নেই। এরপর উর্মিলা বাড়ৈ স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ শুনে প্রকাশ্যেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। একপর্যায়ে বর্ধিত সভায় সাংবাদিকদের উপিস্থিতি দেখে হাফিজুর রহমান ইকবাল সভা শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আ’লীগ নেতারা জানিয়েছেন ইকবাল চেয়ারম্যান যে পদের অধিকারী, উর্মিলাও একই পদের অধিকারী। তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করা ঠিক হয়নি ইকবালের। ইকবাল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বারবার ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করছেন। জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি কথা বলতে চাইলে ইকবাল বলেন, উনি যদি বেশি কথা বলে তাহলে তাকে বে-ইজ্জতি করবো।
উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল গত ৩১ জানুয়ারী সকাল ৮ টায় জল্লা ইউনিয়নের কারফা বাজারে গিয়ে প্রকাশ্যেই উর্মিলা বাড়ৈকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী না হওয়ার জন্য গালিগালাজ করে জীবন নাশের হুমকী দিয়ে আসে। এ সংবাদ পরের দিন ১ ফেব্রুয়ারী প্রায় সকল পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় সে উর্মিলার প্রতি ক্ষিপ্ত হয় এবং উজিরপুরের ২/৩ জন সংবাদ কর্মিকে দেখে নেওয়ার হুমকী দেয় এবং কিছু বিএনপি ঘরানার দালাল সাংবাদিকদের দিয়ে ওই সংবাদটি পরেরদিন ফলাও করে তার পক্ষে কভারেজ করানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।
আগামি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (৯ ইউনিয়নে ) তার পছন্দের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই নিয়ে ইকবাল কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বানিজ্য মিশনে নেমেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই অভিযোগ করেছেন। তারা আরও বলেছেন গত ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উজিরপুর পৌরসভা নির্বাচনে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইকবাল তার পছন্দ মোতাবেক ৩,৪,৫,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে অযোগ্য ব্যাক্তিদের কমিশনার বানিয়ে নবগঠিত উজিরপুরের প্রথম পৌরসভা নির্বাচনটি ইতিহাসের পাতায় একটি জঘন্য কালিমা লেপন করেছেন। এখন আবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে নিয়ে গোটা উজিরপুর উপজেলা বাসীদের বোকা বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।