ঈদে ঘরমুখী দক্ষিনের যাত্রীদের তিন রুট সচলঃ স্পেশাল সার্ভিসে ২৩ লঞ্চ, আকাশ পথে তিন বিমান,সড়ক পথে নেই খানাখন্দ

145

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশালঃ
আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে নারীর টানে বাড়ি ফেরা নদী বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের প্রতিবছর একমাত্র ভরসাই থাকতো নৌরুটের লঞ্চের ওপর। লোকসানের অযুহাতে আকাশ পথের বিমান ছিলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। অতীতে খানাখন্দের কারণে সড়ক পথে মানুষের চাঁপ কমাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই নৌ-পথের ওপর গুরুত্ব দেয়া হতো বেশি। ফলে লঞ্চযাত্রীদের থাকতে হতো দালালদের কাছে জিম্মি। যাত্রীদের অগ্রিম টিকিট দালালদের হাত ঘুরে চলে যেতো কালোবাজারে। তখন একটি টিকিট যেন ঘরমুখী মানুষের কাছে সোনার হরিন হয়ে যেতো।
সূত্রমতে, পুরনোদিনের সকল ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য মন্ত্রী ও এমপিদের পরামর্শ দেয়ার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় গোটা দেশের ন্যায় বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। একসময় লোকসানের অজুহাতে বন্ধ হয়ে যায় আকাশ পথে ঢাকা-বরিশাল রুটের বিমান। বর্তমান সরকারের বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর সাহসী উদ্যোগে বর্তমানে একই রুটে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানীর তিনটি বিমান লভাংশের মাধ্যমে চলাচল করছে বীরদর্পে। যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী একাধিকবার সফর করেছেন দক্ষিণাঞ্চলে। তারই দুুরদর্শীতায় পর্যায়ক্রমে খানাখন্দের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ফিরে পায় যৌবণতা। নৌ-মন্ত্রীর অসংখ্যবার সফরের মধ্যদিয়ে আধুনিক নৌ-বন্দর থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে আসে নৌরুটের জৌলুস। একে একে নৌরুটে যোগ হয় সরকারি এবং বেসরকারি কোম্পানির বিলাস বহুল জাহাজ ও লঞ্চ। ফলে এখন আর ঈদে ঘরে ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের কেবল লঞ্চের ওপর ভরসা করে থাকতে হচ্ছেনা। নৌরুট, আকাশ এবং সড়ক পথ সচল থাকায় এবারই কেবল কোন প্রকার ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই নিরাপদ ও আরামদায়ক অবস্থায় ঈদে নারীর টানে শেকরের কাছে আসা দক্ষিণের লাখো যাত্রীরা যাতায়াত করতে যাচ্ছেন।
স্পেশাল সার্ভিসে ২৩ লঞ্চ ও ৫ রকেট ॥ ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নারীর টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের লাখো যাত্রীদের সুবিধার্থে সবচেয়ে বেশি লঞ্চ ও জাহাজ যুক্ত হচ্ছে। সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে এবারের ঈদে বেসরকারি কোম্পানির নিয়মিত লঞ্চসহ মোট ১৭টি লঞ্চ সরাসরি ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহন করবে। এরমধ্যে পারাবত কোম্পানির ৫টি, সুন্দরবন কোম্পানির ৩টি, সুরভী কোম্পানির ৩টি, কীর্তনখোলার ২টি, টিপুর ১টি, ফারহানের ১টি, কালাম খানের ১টি, দীপরাজের ১টি। দিবাসার্ভিসের গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের দুইটি জাহাজ এ রুটে যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া চাঁদপুর-বরিশাল ভায়া ফতুল্লা হয়ে সুন্দরবন, ফারহান, পূবালীসহ চারটি লঞ্চ চলাচল করবে। পাশাপাশি সরকারী জাহাজ সার্ভিসে বিআইডব্লি¬উটিসি’র পিএস মাহসুদ, অষ্ট্রিজ, লেপচা, নামের তিনটি রকেট ও নতুন সংযুক্ত এমভি মধুমতি, এমভি বাঙালীসহ মোট পাঁচটি জাহাজ যাত্রীপরিবহন করবে। সূত্রমতে, অন্যান্য বছরগুলোতে দুটি ঈদের সময় দক্ষিণের লাখো মানুষ নাড়ির টানে রাজধানী ঢাকা থেকে বরিশাল ও আশপাশের জেলার মানুষ নৌ-পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে ফিরতেন। বিগতদিনে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা থেকে এবারই সর্বপ্রথম ঈদ উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি লঞ্চ ও জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি নৌ-রুটের মধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথকে নিরাপদ হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে। তাই এ অঞ্চলের মানুষ লঞ্চেই যাতায়াত বেশি করায় ঈদ মৌসুমে যাত্রী চাঁপ বেশি থাকে। যুগের সাথে তালমিলিয়ে ইতোমধ্যে বিলাসবহুল বৃহৎ আকারের লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে এ রুটের নৌ-বহরে।
স্পেশাল সার্ভিস লঞ্চের টিকিট বিতরণ শুরু ॥ ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রীবাহি ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকিট বরিশাল থেকে বিতরণ করা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ টিকিট যাত্রীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এরআগে বরিশাল-ঢাকা রুটের যাত্রীবাহি লঞ্চগুলোর পক্ষ থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে টোকেন বা কেবিন প্রাপ্তির আবেদন সরববরাহ করা হয়েছিলো। সেই টোকেন যাচাই-বাছাই করে কীর্তনখোলা ও সুরভী নেভিগেশন কোম্পানি ঈদের অগ্রিম টিকিট যাত্রীদের মাঝে বিতরণ শুরু করেছে। এ ব্যাপারে সুরভী নেভিগেশনের বরিশাল কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা রাকিব আল হাসান জানান, তারা রমজানের শুরু থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে টোকেন বা আবেদন গ্রহন করেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার যাত্রীদের মাঝে টিকিট বিতরন শুরু করেছেন। তিনি জানান, বরিশাল থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে সিঙ্গেল কেবিনের মূল্য ১২’শ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২৩’শ টাকা করে রাখা হচ্ছে। সুন্দরবন নেভিগশন ও তাদের যাত্রীদের কাছ থেকে একইভাবে টোকেন নিয়েছেন। তারাও যাত্রীদের মাঝে আগামী ২/১দিনের মধ্যে টিকিট বিতরণ করবেন। পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রীদের বিষয়টিও দেখা হবে বলে জানিয়েছেন কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা জাকির হোসেন। তিনি জানান, বর্তমানে তাদের সিঙ্গেল কেবিন ৯’শ থেকে ১ হাজার ও ডাবল কেবিন ১৮’শ থেকে ২ হাজার টাকা করে রাখা হয়। তবে ১ তারিখের পর ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে এ ভাড়া কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। এদিকে কীর্তনখোলা-১ ও ২ লঞ্চের ঈদের অগ্রিম টিকিট কয়েকদিন আগে থেকেই সরাসরি যাত্রীদের মাঝে বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এ লঞ্চের বরিশালের কাউন্টার দায়িত্বে থাকা আলামিন জানান, তারা প্রতিবারই আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে যাত্রীদের কেবিন দিয়ে থাকেন। যতোক্ষন তাদের হাতে কেবিন থাকবে ততক্ষনই তারা টিকিট বিক্রি করেন। তিনি বলেন, কোন দালালরা যাতে প্রশ্রয় না পায় সে জন্য অফিস থেকেই কেবিন দেয়া হচ্ছে। একইভাবে বরিশাল থেকে ঢাকার ফিরতি টিকিটও দেয়া হবে। তাদের লঞ্চের বর্তমানে সিঙ্গেল কেবিন ১ হজার ও ডাবল ২ হাজার টাকা। যা ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে ১১’শ ও ২২’শ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে।
লঞ্চ মালিকরা জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রীর ভাড়া ডেকে সর্বোচ্চ ২৫৫ টাকা, আর কেবিনের ৫ গুন পর্যন্ত রাখা যাবে। এদিকে বিআইডব্লিউটিসি’র বরিশালের সহ-মহাব্যববস্থাপক (বাণিজ্য) আবুল কালাম আজাদ জানান, বরিশালে তাদের টার্মিনাল সংকট নিরসন ছাড়া সকল প্রস্তুতিই সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী রবিবার থেকে যাত্রীরা সরকারী জাহাজের ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের ডেকের টিকিটও হাতে পাবেন। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহনের জন্য ( িি.িংযড়যড়ু.পড়স) অথবা ১৬৩৭৪ এই নম্বরে কল করে কিংবা বিআইডব্লিউটিসির নির্ধারিত বুকিং কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা যাবে বলেও ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। বিআইডব্লিউটিসি’র ডিজিএম (যাত্রী/বাণিজ্য) আজমল হোসেন জানান, তাদের মোট আটটি বড় জাহাজ আগামী ২৯ জুন থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। এরমধ্যে এমভি বার আউলিয়া, এমভি মনিরুল হক ও এমভি মতিন চলাচল করবে চট্টগ্রাম, হাতিয়া ও সন্দ্বীপ রুটে। এছাড়া ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ঝালকাঠী, হুলারহাটসহ মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করবে পিএস মাহসুদ, অষ্ট্রিচ, লেপচা, এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী। একইসাথে বর্ষা মৌসুমের কারণে উপকূলীয় এলাকার উত্তাল নদী পাড়ি দিতে অভ্যন্তরীন রুটের চলাচলকারী সি-ট্রাকগুলোও ঈদে নির্বিঘেœ ঘরে ফেরা মানুষদের জন্য ২৯ জুন থেকে স্পেশাল সার্ভিস চালু করবে।
আকাশ পথে তিন বিমান ॥ আকাশপথে ঢাকা-বরিশাল রুটে এবারই প্রথমবারের মতো বেসরকারি কোম্পানীর নভো এয়ার, ইউএস বাংলা ও সরকারি বাংলাদেশ বিমান একত্রে নিয়মানুযায়ী তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করবে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি বিমান তাদের ফ্লাইট বাড়াবেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তিন বিমানের প্রতিযোগীতায় ঈদে আকাশ পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্যও থাকছে নানাধরনের অফার।
সড়ক পথে নেই খানাখন্দ ॥ অন্যান্য বছরের ন্যায় এবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে নেই কোন খানাখন্দ। ফলে যাত্রীরা নিরাপদেই এবার সড়ক পথে তাদের গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের ঈদে ঢাকা-বরিশাল সড়কপথে ঈগল, হানিফ, সাকুরা, গোল্ডেনলাইন, সোনারতরী, মেঘনাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবহন যাত্রীসেবা প্রদান করবে। পাশাপাশি মাওয়া-বরিশাল রুটে রয়েছে বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিসের সাথে মাইক্রোবাসে যাতায়াতের সুবিধা। ঈদের আগেই নতুন করে যাত্রীসেবায় ঢাকা-বরিশাল সড়কপথে ডিপজল পরিবহনের এসি বাস সার্ভিস চালু হওয়ারও কথা রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্থার ফেরীগুলো পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, আরিচা, শিমুলিয়া ও চরজানজাতসহ সকল রুটে অতিরিক্ত ট্রিপ দিয়ে যানবাহন পারাপার করবে। জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আফতাব আহম্মেদ জানান, রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও খুলনা জেলায় যাত্রীসেবা দিতে ১৬০টি বাস প্রস্তুত রয়েছে। বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার মোঃ জামিল হোসেন জানান, ডিপোর ৪২টি বাসের মাধ্যমে ঈদে যাত্রী সেবা দেয়া হবে। এরমধ্যে ১০টি বাসই বরিশাল থেকে মাওয়া রুটে চলাচল করবে। তবে বাসের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অপরদিকে বরিশালের অভ্যন্তরীন বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, উজিরপুর, ্আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর রুটসহ বরিশাল-মাওয়া রুটে যাত্রীসেবা দিতে আড়াই শতাধিক বাস প্রস্তুত রয়েছে।
একসাথে এতো সার্ভিসের ফলে এবারে লঞ্চে যাত্রীর চাঁপ অনেকাংশে কম হওয়ার আশংকা করে কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, এ বছর অন্যসব সময়ের চেয়ে বেশি লঞ্চ থাকবে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে। বহরে থাকবে তিনটি কোম্পানীর সবচাইতে বড় ও আধুনিক বিলাশ বহুল নৌযান। যার কারনে যাত্রীর চাঁপ কমে যাবে। আবার দিবাসার্ভিস, সরকারি রকেট সার্ভিস, সড়কপথ ও আকাশপথের সুযোগ সুবিধা বাড়ার কারনে আগের মতো আর লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে হবেনা। তার পরেও স্পেশাল সার্ভিস শুরুর পর থেকে ঈদেরদিন পর্যন্ত কয়েক লাখ যাত্রী বরিশালে আসবেন বলেও তিনি ধারনা করছেন। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি কোম্পানীর লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। বেসরকারি যাত্রী পরিবহন সংস্থার (যাপ) নেতাদের সাথে বৈঠক করে আগামী দু’একদিনের মধ্যেই লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের সিডিউল ঘোষণা করা হবে।
বরিশাল-ঢাকা রুটে লঞ্চ রোটেশন প্রথা বাতিল কমিটির সদস্য কাজী এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, এবার দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের বাড়ি ফিরতে আগের মতো আর দূর্ভোগ পোহাতে হবে না। বরিশাল নৌ-বন্দর কর্মকর্তা এবং নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যাত্রী সাধারনসহ সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বরিশাল লঞ্চঘাট অর্থাৎ নদী বন্দরে জরুরী ভিত্তিতে ঈদের আগেই বসানো হচ্ছে ১৬টি সিসি ক্যামেরা। চলতি মাসের মধ্যেই এসব ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হবে। পাশাপাশি স্পেশাল সার্ভিসের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত তদারকির জন্য থাকবে দুটি মেটাল ডিটেক্টর গেট। পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা বন্দর তদারকি ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও যাত্রীসাধারনের সার্বিক সহযোগীতার লক্ষে ও বন্দরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্কাউট ও গার্লস গাইডের সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। তিনি আরও জানান, এবারের ঈদ বর্ষাকাল হওয়ায় যাত্রীদের বসার জন্য টার্মিনাল ভবনের ভেতরে ও সামনে চেয়ার এবং প্যান্ডেল করে দেয়া হবে। পাশাপাশি ঈদের ১০দিন আগ থেকে ১০দিন পর পর্যন্ত নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীবাহি নৌ-রুটে বাল্কহেড, ট্রলারসহ অবৈধ নৌ-যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।