ঈদের আগে ও পরের ১০দিন ছোট নৌযান চলাচল বন্ধ

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকেঃ যাত্রীবাহি লঞ্চ, স্টিমার ও অত্যাধুনিক ওয়াটার ওয়েজ চলাচলের সুবিধার্থে এবারের ঈদ-উল আযহার আগের ও পরের ১০দিন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ট্রলার, বলগেটসহ (বাল্কহেড) সবধরনের ছোট নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
সূত্রমতে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ঈদের স্পেশাল সার্ভিস চালু হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যাত্রী পরিবহনে আগের চেয়ে এবার বাড়তি লঞ্চ ও জাহাজের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের যাত্রীদের এবার ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে। পাশাপাশি বরিশাল নৌ-বন্দরসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও স্পেশাল সার্ভিস চলাকালে এবারই সর্বপ্রথম নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ডুবুরি দল এবং অসুস্থ্য যাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল টিম নৌ-বন্দরে উপস্থিত থাকবে।
বরিশাল বিআইডব্লি¬উটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার জানান, প্রতিবছর বরিশাল-ঢাকা রুটে বেসরকারি ১১ থেকে ১৫টি লঞ্চ স্পেশাল বা ঈদ সার্ভিসে যুক্ত থাকে। কিন্তু লঞ্চের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন বরিশাল-ঢাকা রুটে সরাসরি নিয়মিতভাবে ১৫টি লঞ্চ ও ভায়া হয়ে আরো পাঁচটি লঞ্চ চলাচল করে। আবার ঈদের সময় অন্যান্য রুটের আরো তিনটি লঞ্চ প্রতিবছরই স্পেশাল সার্ভিসে যুক্ত হয়ে থাকে। এছাড়া এবার গ্রিন লাইনের দু’টি ডে সার্ভিস লঞ্চ থাকছে। সবমিলিয়ে এবছর আগের চেয়ে বেশি লঞ্চ যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত থাকবে। ফলে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার ঈদ যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হবে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাড়তি লঞ্চ আর বাড়তি যাত্রীর কথা চিন্তা করে নৌ-বন্দর ও আশপাশের এলাকায় নৌ ও সড়ক পথে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল ছাড়াও বন্দর ভবনের সামনে প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নৌ-বন্দর ও লঞ্চে চুরি-ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতারোধে আনসার, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। যাত্রীদের তথ্য সেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য তথ্যসেবা কেন্দ্র ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা কাজ করবেন। এছাড়া পুরো এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে জেলা প্রশাসন ও নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে পরিচালিত হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিসি’র স্পেশাল সার্ভিস ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। বাড়তি যাত্রীর চাঁপ বিবেচনায় রেখে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিশেষ সার্ভিস চালু থাকবে। এবারের ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের বহরে সরকারি সাতটি জাহাজ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লি¬উটিসির বরিশালের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, শিডিউল অনুযায়ী ঈদের আগে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে রকেট সার্ভিসে পিএস টার্ন, পিএস মাহসুদ, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও জাহাজ সার্ভিসে এমভি মধুমতি, এমভি বাঙালি যাত্রীসেবায় নিয়োজিত থাকবে। আর পিএস সেলাকে চাঁদপুরে স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে। প্রয়োজন হলে এটিকে স্পেশাল সার্ভিসে যুক্ত করা হবে। জাহাজগুলো ঢাকা থেকে হুলারহাট পর্যন্ত যাত্রায় চাঁদপুর, বরিশাল ও ঝালকাঠী স্টেশনে যাত্রাবিরতী করবে। যাত্রীদের চাহিদা থাকলে এ রুটে ট্রিপ আরও বাড়ানো হবে। এছাড়াও বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটে এমভি খিজির-সাত নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করবে। প্রয়োজনে ডাবল ট্রিপও দিবে এ লঞ্চটি। তিনি বলেন, ঈদ সার্ভিস যাত্রীদের জন্য সহজ করতে অনলাইনে (সহজ ডট কম) অর্ধেক টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়েছে। বাকি অর্ধেক টিকিট কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বেসরকারি লঞ্চ কোম্পানী সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্তাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, ঈদ স্পেশাল সার্ভিস আগামি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, আসন্ন ঈদ-উল আযহায় সড়ক ও নৌপথের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাসিক সমন্নয় সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে আসা লঞ্চযাত্রীরা ফজরের আজান পর্যন্ত যাতে নৌ-বন্দরে অবস্থান করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের সময় মহাসড়কে পরিবহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওইসময়ে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার যানবাহন কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।