ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৪

52

যুগবার্তা ডেস্কঃ পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ২০৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ২৭৪ জন নিহত ও ৮৪৮ জন আহত হয়েছেন। সড়ক-রেল ও নৌ পথে সম্মিলিতভাবে ৩১১ জন নিহত ও ৮৬২ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকালে রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্রাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, এবার ঈদে রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিমাণ। ঈদ যাত্রার শুরুর দিন ১৯শে জুন থেকে ১লা জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ দিনে দেশের ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক পত্রিকা ও ১০টি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উপর মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবেদনটি তৈরি করে। এতে দেখা যায়, সব চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সড়কপথে। দুর্ঘটনায় ৩৮ শতাংশ বাস, ৩৪ শতাংশ ট্রাক ও পিকআপ, ২৪ শতাংশ নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল এবং ৪ শতাংশ অন্যান্য যানবাহন জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পথচারী ৩৬ শতাংশ, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩৮ শতাংশ, ওভারটেকিংয়ে ১৩ শতাংশ ও অন্যান্য কারণে ১৩ শতাংশ দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। পর্যবেক্ষণে আরো দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়া, অধিক গতিতে যানবাহন চালানো, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহনের যাত্রী বহন, মহা-সড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, নসিমন-করিমন চলাচল, রাস্তার উপর হাটবাজার ও ফুটপাত দখল, ফুটপাত না থাকা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, বিরতিহীন যানবাহন চালানো ও ভাঙাছোড়া রাস্তাঘাটের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদ যাত্রায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌ-পথে একটি দুর্ঘটনায় তিন জন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। রেলে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ২৫ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ৩৪ জন নিহত হন।
প্রতিবেদনে গত বছরের সঙ্গে এ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার তুলনামূলক চিত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে ১২১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৬ জন নিহত হয়েছিল। আর এ বছর ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেলপথে কাটা পড়ে ২০১৬ সালে তিনজন নিহত হয়। আর এবার রেলপথে কাটা পড়ে ৩৪ জন নিহত হয়েছে। সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনা বাড়লেও উল্টো চিত্র দেখা যায়, নৌ-পথে। ২০১৬ সালে তিনটি নৌ-দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছিল। এবার তা কমে একটি দুর্ঘটনায় তিনজন মারা গেছে। দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
যারমধ্যে রয়েছে-সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন, যানবহানের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, রাস্তার রোড সেফটি অডিট করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা, প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মান সম্মত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা, মহাসড়কে ধীরগতির যান ও দ্রুত গতির যানের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি চালিত রিকশা, অটো রিকশা বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা; ভাঙা চোরা রাস্তাঘাট মেরামত করা ও মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কর ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে উদ্যোগ নেয়া। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ঢাকা-মংমনসিং-রংপুর রুটে সর্বাধিক বাক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানিও বেশি হয়েছে।
রংপুরের তারাগঞ্জে যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এতে নিহতদের পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা এই ক্ষতিপূরণ তারা পায়নি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) যুগ্ম মহাসচিব গনি মিয়া বাবুল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন প্রমুখ। মানবজমিন