ইয়েস, আমার বাজেট ‘উচ্চাভিলাষী’: অর্থমন্ত্রী

44

যুগবার্তা ডেস্কঃআগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা বাজেটকে ‘প্রগতিশীল’ ও ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটের আকার বাড়ার কারণ হিসেবে পুরনো সুরেই কথা বললেন মুহিত। জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করার পরদিন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “ইয়েস, আমি নিজেই বলেছি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী এবং এই বাজেট অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য।”
“অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য চাই উচ্চাভিলাষ। থাকতে হয় সঠিক পরিকল্পনা, করতে হয় তার বাস্তবায়ন। সে বিশ্বাস থেকেই বাড়ছে বাজেটের আকার।”
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অব্যাহত উন্নয়নে উচ্চাভিলাষী বাজেটের বিকল্প নেই। এজন্য বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দিকে।
অর্থমন্ত্রীর মনে করেন, বাজেট উচ্চাভিলাষী হওয়ায় সরকারের দায়িত্ব বাড়ছে, বাড়ছে দক্ষতাও। আর সেজন্য বাজেট বাস্তবায়নের হার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
লক্ষ্য এখন উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। রাজনৈতিক বক্তৃতায় এটা খুব সহজ বলে তুলে ধরা হলেও এতে বড় চ্যালেঞ্জ আছে বলে স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী। সে লক্ষ্য পূরণে আগামী বাজেট নিয়েও শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ। অর্থমন্ত্রী জানালেন, অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আগামী বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহে নেওয়া হচ্ছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। চলতি মাস থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে।
এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গত দুই অর্থবছরের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির তুলনা দেখিয়েছেন তিনি। বলেছেন, গতবছর রাজস্ব আদায় ‘নিম্ন মানের’ হলেও আগের বছর পুরো সময় তা দুই অংকের উপরে ছিল।
“আমি সাত বছর ধরে এই মন্ত্রণালয়ের আছি। গত সাত বছরে রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।ৃ নতুন নতুন অফিস হয়েছেৃ প্রত্যেক উপজেলায় অফিস হবে। ৃ ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আদায়ের প্রস্তাব করেছি।”
গত কয়েক বছরের মতোই রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের চারজন মন্ত্রী মুহিতের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন।
মুহিতের ডানপাশে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর বাঁ পাশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নানকে বসিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মুহিত।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবরাও এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সিম ট্যাক্স অপরিবর্তিত রাখা এবং মোবাইলে কথা বলার ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, বাংলাদেশে সাড়ে ১৫ কোটি মানুষের হাতে এখন ১৩ কোটি মোবাইল ফোন। এ থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ কম।
“কথা বলার উপরে ১ শতাংশ বেশি ট্যাক্সৃ যারা কথা বলেন, তাদের জন্য তেমন কিছু গ্রাহ্য করার বিষয় নয়। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের এটি একটি উত্তম উপায়।”
অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপনের পর বৃহস্পতিবার রাতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি এসআরও জারি করে, যাতে মোবাইল ফোনের সেবায় সম্পূরক শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়। ওই এসআরও পাওয়ার পরপরই মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন হারে টাকা কাটা শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মুহিত বলেন, “সব দেশের চেয়ে আমরা সব থেকে কম আদায় করি। আমাদের হ্যাবিটটা চেইঞ্জ করা দরকার। রাজস্বের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ আমরা সব সময় সরকার কী সেবা দিল তা নিয়ে হৈ চৈ করি, দাবি করি। কিন্তু সরকার সেবা দিতে গেলে যে রাজস্ব প্রয়োজন সেটা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাই না। তাই একটু রাজস্ব বেশি দিলে মন্দ হয় না।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, সরকার গত ৬ বছরে কর্মক্ষম সবাইকে চাকরি দিতে পারেনি।
তবে বর্তমান সরকারের সময় কর্মসংস্থানের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “আমরা মনে হয় কর্মসংস্থানে আমরা টার্গেট অনুযায়ী পিছিয়ে নেই।”
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদে ৯০ পৃষ্ঠা (বাজেট বক্তৃতা) পড়ার পর আজ (শুক্রবার) বক্তৃতা দেওয়া উচিত নয়। যারা প্রশ্ন করতে চান তাদের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাই।
এরপর বাজেট নিয়ে দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত ‘নারীর উন্নয়নে জিডিপির ৪.৭৩% বরাদ্দ’ এবং দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত ‘মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণা ব্যর্থ হবে’ শীর্ষক দুটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী।
ওই দুটি প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য অর্থমন্ত্রী একজন প্রতিবেদককে ‘নির্বোধ’ এবং আরেকজনকে ‘বিরাট একজন পণ্ডিত ও ভবিষ্যৎ বক্তা’ আখ্যায়িত করেন।
এক নজরে বাজেট:
নতুন অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ফর্দ ধরেছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।
এই খরচ মেটাতে রাজস্ব হিসেবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা তার।
এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে আসবে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা।
৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ধরেছেন মুহিত।
বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৭.২%
চলতি বাজার মূল্যে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকার ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ কোটি টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে বাজেট।