ইসি দাবি না মানলেও পৌরসভা নির্বাচন করবে বিএনপি

63

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিএনপি বলছে, তারা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সময়সূচিতে পরিবর্তন চায়। কিন্তু তা না হলেও তারা ঐ নির্বাচনে অংশ নেবে।
প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলটির যুগ্মমহাসচিব মোহাম্মদ শাজাহান বিবিসিকে বলেছেন তারা নির্বাচন কমিশনকে ভোট পেছানোসহ কিছু দাবি জানিয়ে চিঠি দিবে। কিন্তু এ সমস্ত দাবি পূরণ না হলেও এ নির্বাচনকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে যোগ দিবে বিএনপি।
দলের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি সব শেষে ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে লড়েছিলো। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচন তারা বর্জন করে। তবে এবার স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হওয়ার ফলে প্রায় ৭ বছর পরে তাদের চিরাচরিত ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে এক ভোট যুদ্ধে নামতে যাচ্ছে বিএনপি।
এদিকে, সাংগঠনিক নানা সমস্যায় আক্রান্ত দলটি এই লড়াইয়ের জন্য কতটা প্রস্তত?
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলীয় নওগাঁর পৌরসভার মেয়র নাজমুল হক সনি গত নির্দলীয় পৌর নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন। এবার দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে আবারো তিনি প্রার্থী হতে চান। এজন্য দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন তিনি। কিš‘ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে তার জন্য জয়ের ক্ষেত্রটি কিছুটা সীমিত হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। তার উপর তার ভাষায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা ও ধরপাকড় করার মাধ্যমেও একরকম ব্যাতিব্যস্ত করে রাখা হয়েছে, যা আসছে নির্বাচনে তার জন্য সমস্যা তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন।
আরোও কয়েকটি জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যাচ্ছে তারাও মি.হকের মতো একইরকম মনোভাব পোষণ করেন। কেন্দ্রিয়ভাবে বিএনপি এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে ভোটগ্রহণ পেছানোর দাবি জানাবে বলে জানিয়েছে। একইসাথে নির্বাচনে যোগ দেবার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে দলটি।
দলের প্রধান খালেদা জিয়া এবং যুগ্মমহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানকে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যয়ণকারী হিসাবে নিয়োগ দেয়ার পর নির্বাচন কমিশনে তার নামও জমা দিয়েছে বিএনপি।
দলটি এখন বলছে নির্বাচন কমিশন যদি তাদের নির্বাচন পেছানোর দাবি মেনে না নেয় তারপরও এই নির্বাচনে তারা যোগ দিবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, আমরা আশা করি অতীতের নির্বাচন কমিশন যে দুর্নাম অর্জন করেছে সে দুর্নাম থেকে তাদেরকে মুক্ত করার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা যদি সে সুযোগটি নিতে চায় তাহলে তারা এই নির্বাচনে চলাকালীন গণগ্রেফতার বন্ধ করবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন আইনে আনা একটি পরিবর্তন অনুযায়ী এবারের আসছে পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে হতে যাচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো প্রথম থেকেই এটির বিরোধিতা করে আসছে। এরই এক পর্যায়ে গত বুধবার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ অনুযায়ী আগামী ৩০শে ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে ২০০’র বেশি পৌরসভার ভোটগ্রহণ। আমাদের সময়.কম