ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ হত্যাকারীরা

আবুল বাসার খানঃ মসজিদে মুয়াজ্জিন আযান দিচ্ছিলেন, ” তোমরা সত্য ও কল্যানের পথে এস” সেই আহবানে সাড়া না দিয়ে কিছু তথাকথিত শিক্ষিত যুবক গেল মানুষ হত্যা করতে এবং এরা নাকি আবার মৃত্যুর পর জান্নাতেও যাবে। এরাই যদি জান্নাতবাসী হয় তাহলে যারা নিয়মিত নামাজ পড়ে এবং নিজেকে সত্য ও কল্যানের পথে উৎসর্গ করে, তারা কোন জায়গায় যাইবে ? আমি যদিও ইসলামের কোন বিজ্ঞ পণ্ডিত নই কিন্তু একজন ধর্মপ্রান মানুষ হিসাবে ছোটবেলায় যতটুকু বাবার কাছ থেকে শিখেছি তাতে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি মানুষ হত্যাকারীরা আল্লাহ্‌ ,নবী ও রাসূলে বিশ্বাস করেনা। আমি একটা জিনিস স্পষ্ট উললেখ করতে চাই—
ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণায় মানুষের মৌলিক অধিকার ও অভিন্ন স্বাধীনতাগুলোকে ইসলাম ধর্মের অংশ বলে জোর দেয়া হয়েছে। তাই এগুলো লংঘন করার অধিকার কারো নেই। তবে যে বিষয়টি ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণাকে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে তা হল, ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণায় মানুষের আধ্যাত্মিক দিকের প্রতি গুরুত্ব। কারণ, ইসলাম মানুষের সৌভাগ্যের জন্য তার আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক উভয় দিককেই গুরুত্ব দেয়। ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণা অনুযায়ী আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ ও আত্মিক দিকগুলোর অগ্রগতি সাধন মানুষের অধিকার এবং এরই ওপর নির্ভর করছে পারলৌকিক সৌভাগ্য।
মানুষের জীবনের অধিকার ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণাসহ জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার অন্যতম প্রধান দিক। ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রাণ বা জীবন খোদায়ী অনুগ্রহ এবং প্রত্যেক মানুষের জন্যই এর নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তাই প্রত্যেক মানুষ, সমাজ ও সরকারের জন্য এ অধিকারের প্রতি সমর্থন দেয়া ফরজ বা অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা গোটা মানব জাতিকে হত্যার সমতুল্য। তাই ইসলাম যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাতকে অপছন্দ করে এবং কেবল দেশ, ধর্ম ও মজলুম মানুষকে রক্ষার জন্য যুদ্ধের অনুমতি দেয়। ইসলাম এ ধরনের যুদ্ধেও বেসামরিক জনগণ, বন্দী, আহত এবং এমনকি পশু ও গাছপালার অধিকার রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে ।
ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণায় মানুষের মধ্যে সাম্য বা সমান অধিকারের কথাও স্থান পেয়েছে বেশ গুরুত্ব সহকারে। এ ঘোষণায় গোটা মানবজাতিকে একটি পরিবার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, তারা সবাই আল্লাহর দাস ও আদমের সন্তান। তাই ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং জাতি ও সমাজের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্যের কোনো অবকাশ নেই। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাধ্যম হল তাক্বওয়া বা খোদাভীতি।
আল্লাহতায়ালা সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। ফেতনা-ফ্যাসাদকারীদের আল্লাহ অপছন্দ করেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার পালন কর্তার পাকড়াও এমনই কঠিন যে, যখন তিনি অত্যাচারে লিপ্ত জনপদগুলোকে পাকড়াও করেন, তখন অবশ্যই তার পাকড়াও হয় অত্যন্ত বেদনাদায়ক কঠোর।’ -সূরা হুদ :১০২
পরিশেষে বলতে চাই, আল্লাহ্‌ কে ভয় করবেন, কোন অস্ত্রধারীকে নয়। মানুষ হত্যাকারীদের ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করুন, এদের প্রতিহত করা আপনার আমার নৈতিক দায়িত্ব। খোদা হাফেজ।।-লেখকঃ চাকুরীজীবী, বরিশাল