ইলিশ নয় কিনছেন চন্দনা

যুগবার্তা ডেস্কঃ হঠাৎ করেই বাজারে প্রচুর ইলিশ! দামটাও কম, নাগালের মধ্যেই।খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সব জায়গায় একই চিত্র। শুধু নদীতেই নয়, এখন অনেক মাছের ঘেরেও ধরা পড়ছে গভীর পানির এই ইলিশ!

দাম কমে আসায় এই মাছ কিনতে হুড়মুড়িয়ে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারাও। তবে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যান্য বারের মতো এবারও ইলিশের নামে অন্য মাছ চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে নাতো? ইলিশের মতো চেহারার সার্ডিন, চাকোরি, কলোম্বো ধরিয়ে ঠকানো হচ্ছে না তো ক্রেতাদের?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাছ ব্যবসায়ী ও সমিতির নেতারা বলেন, স্বাদে পার্থক্য থাকলেও ইলিশের ছোট আকারের আর একটি প্রজাতি হচ্ছে চন্দনা। দেখতে হুবহু ইলিশের মতো। খুচরা ব্যবসায়ীরা ইলিশের দামেই এ মাছ বিক্রি করছেন। সে কারণে ইলিশ কেনার সময় প্রত্যেকেরই দেখে কেনা উচিত। তাহলে প্রকৃত ইলিশের সেই স্বাদে কোনও কমতি থাকবে না।

চন্দনা মাছের গায়ের রং ইলিশের মতো সাদা হলেও পিঠ ইলিশের মতো সুরমা রংয়ের নয়। চোখ দুটি বড়। ইলিশের মতো ততটা চ্যাপ্টাও নয়। সাইজে এবং দেখতে অনেকটাই ইলিশের কাছাকাছি। এই সুযোগ ব্যবহার করছেন অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা। আর এ সব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।
খুলনা মহানগরীর টুটপাড়ার বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার বিউটি বলেন, ‘বাজারে গিয়ে একটা ১ কেজি ১ শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ দাম করলে দোকানিরা মাত্র ৬শ’ টাকা চায়। মাছটা বেশ চকচকে এবং চোখ দুটি বেশ বড়। পরে আমার বোন মাছটি কিনতে নিষেধ করে। এরপর মাছ না কিনে চলে আসি।’

বানিয়াখামারের শেখ ইমরান বলেন, ‘সন্ধ্যায় ময়লাপোতা থেকে মাছ কিনতে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের ঝুড়িতে থাকা কয়েকটা মাছ ভিন্ন। রংটা বেশ সাদা। ইলিশ বলেই দোকানি বিক্রি করে। এনে রান্না শেষে খাওয়ার সময় ইলিশের সেই স্বাদ বা ঘ্রাণ কিছুই পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি সেটি আসলে ইলিশ ছিল না। যা ছিল ইলিশের মতই দেখতে চন্দনা।’

খুলনা জেলা মৎস্য অফিসের জরিপ কর্তকর্তা বিধান চন্দ্র মন্ডল জানান, প্রতি বছর মৎস অধিদফতর থেকে ১২ অক্টোবর থেকে ২২ দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে ইলিশ নাকি চন্দনা বিক্রি এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার কোনও সুযোগ তাদের নেই।