Home শিক্ষা ও ক্যাম্পাস ইবিতে বেশীরভাগ টয়লেট ব্যবহার-অযোগ্য

ইবিতে বেশীরভাগ টয়লেট ব্যবহার-অযোগ্য

61

নূর ই আলম, ইবি প্রতিনিধি: ১৭৫ একরের সুবিশাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে ০৬ টি একাডেমিক ভবন, ০৮ টি আবাসিক হলের অধিকাংশ শৌচাগারের অবস্থা শোচনীয়। দিনের পর দিন পরিষ্কার না করায় ময়লা আবর্জনা জমে এখন নোংরা হয়ে আছে শৌচাগারগুলো। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের।

শৌচাগারের জরাজীর্ণ অবস্থা, ময়লা-দুগর্ন্ধ, নিয়মিত পরিষ্কার না করা ছেলে মেয়ে আলাদা পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হরহামেশাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী ভবন হলো অনুষদ ভবন। যার নিচ তলায় থাকা একটি ওয়াশরুমও ব্যবহারযোগ্য নয়। এমনকি ওয়াশরুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাক বন্ধ করে পার হওয়া লাগে। একই অবস্থা বিবিএ ফ্যাকাল্টির ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেটিং বিভাগেরও। এছাড়া মীর মোশাররফ হোসেন ভবনে নেই ছেলে মেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম। ফলে প্রায়ই লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। কখনো ওয়াশরুম ব্যবহার করার জন্য ফ্লোর পরিবর্তন করতে হয়।

এছাড়াও কিছু ওয়াশরুমের দরজার ছিটকিনিও ভেঙে গেছে, বেসিন ভাঙা, ব্যবহৃত পানির ট্যাপগুলো নষ্ট। কয়েকটি পানির ট্যাপ ভেঙে অনবরত পানি পড়ে শৌচাগারের মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। ময়লা আবর্জনা জমে আছে ভবনের অধিকাংশ শৌচাগারে। মলমূত্রে নোংরা অবস্থা হয়ে আছে, নেই পর্যাপ্ত পানি, কোনো টিস্যু কিংবা সাবানের ব্যবস্থা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ভেতরে ঢুকে দরজা লাগানোর মতো অবস্থাও নেই শৌচাগার গুলোয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় এসব শৌচাগার এখন সংক্রামক রোগজীবাণুর উৎসে পরিণত হয়েছে।

তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির শৌচাগারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিরাজ করছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সুয়ারেজ লাইন জ্যাম হয়ে বিশ্রী অবস্থা সেগুলোর। বাইরে থেকে আগত দর্শনার্থী বা অতিথিরা বাধ্য হয়ে কোনরকমে দম আটকে প্রাকৃতিক কাজ সাড়েন।

এ বিষয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী রাজ বলেন, আমাদের ব্লকে ৫ টি রুমের জন্য ৩ টি ওয়াশরুম। কিন্তু দুইটি একেবারের ব্যবহার করা যায় না। ছিটকিনি নেই, ট্যাপ নষ্ট, নোংরা হয়ে পড়ে আছে তাই ওয়াশরুম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। প্রায় সবকয়টি ব্লকের অবস্থাও সেম। পানি পড়তে পড়তে স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে সর্বত্র।

খালেদা জিয়া হলের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য জানান, আমাদের হলে দশটি গণরুমের শতাধিক ছাত্রীর জন্য ওয়াশরুম বরাদ্দ আছে মাত্র তিনটি। প্রয়োজনের তুলনায় যা নিতান্তই নগণ্য। এমতাবস্থায়, বাথরুমে ছাত্রীদের লাইন লেগেই থাকে। অনেক সময় জরুরী প্রয়োজনেও ব্যবহার করা সম্ভব হয়না যা প্রায়শই বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্রেক করে। এছাড়া পানির কল নষ্ট থাকায় সবকটি বেসিনও ব্যাবহার করা যায় না।

লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফ বলেন, বর্তমানে আমাদের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের, টিএসসিসির এবং হলগুলোর ওয়াশরুমের অবস্থা খুবই লজ্জাজনক। ওয়াশরুম গুলোর এমন অবস্থা যে ১০ হাত দূর থেকেই এত তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যায় যে ভেতরে যাওয়ার কথা ভাবাই যায় না। প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বারবার জানিয়েও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকা এবং শৌচাগার অপরিষ্কার থাকায় অনেক মেয়ে ওয়াশরুমে যেতে চায় না। অনেকে নোংরা শৌচাগারে যাওয়ার ভয়ে পানি কম পান করে। যার দরুন অনেকেই মূত্রথলি, ইউরিন ইনফেকশন ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের প্রধান মো: সামছুল ইসলাম জোহা বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হলো লোকবল সংকট। ১৪ বছর আগে যাদের সুইপার নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো তারপর থেকে ওদের দিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। শুরুতে মাত্র ৪০০ ওয়াশরুম থাকলেও এখন প্রায় ২০০০ এর অধিক ওয়াশরুম রয়েছে। ১৪ বছর আগে নিয়োগ পাওয়া অনেকে মারাও গেছে। আমরা মূলত সুইপার সংকটে ভুগছি।

তিনি আরো বলেন, খুব দ্রুতই সুইপার সংকটের সমাধান হবে বলে কর্তৃপক্ষের থেকে আশ্বাস পেয়েছি।