ইফতাররকে কেন্দ্র করে ববিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ ॥ ভাংচুর আহত-১০

53

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে.
ইফতার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রলীগের কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হলের কয়েকটি কক্ষ ভাংচুর করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতার পূর্ব সৃষ্ট বিরোধের জেরধরে ওইদিন রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত কয়েক দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আল-আমিন, ক্যামেস্ট্রি বিভাগের এনামুল হক, মার্কেটিং বিভাগের সাকিব হোসেন, আইন বিভাগের ছাত্র নাঈম উদ্দিন মিঠুকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভার্সিটির ছাত্র নাঈম হোসেন ইমরানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একাংশ ইফতার পার্টির আয়োজন করে। অতিসম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাস এলাকার হাবিব হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট বর্জন করা হয়। সেই হোটেলেই ইফতারের আয়োজন করায় তা বর্জন করে ছাত্রলীগের শাওন ও রুবেল গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এনিয়ে ইফতারের পূর্বে ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপের মধ্যে দ্বিমুখী দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। একপর্যায় ভার্সিটি শাখার ছাত্রলীগ নেতা শাওন ও রুবেল গ্রুপ এক হয়ে নাঈম হোসেন ইমরান গ্রুপের সমর্থকদের পতিহত করতে লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে অস্থান নেয়। এর কিছুক্ষন পরেই ছাত্রলীগের নাঈম গ্রুপের সমর্থকেরাও ক্যাম্পাস এলাকায় পাল্টা প্রস্তুতি নিলে দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ি ও বন্দর থানা পুলিশ এবং শিক্ষক নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার পাশাপাশি দুই গ্রুপকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু আবাসিক হলের কয়েকজন ছাত্র জানায়, মধ্যরাতে ছাত্রলীগের নাঈম গ্রুপের সমর্থকেরা অপর গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
ছাত্রলীগের একাংশের নেতৃত্ব দেয়া নাঈম হোসেন ইমরান বলেন, ইফতার পার্টি নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। আমাদের কয়েকজন ছেলেকে ওরা মারধর এবং কুপিয়ে জখম করেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়া শাওন ও রুবেলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনুসারী আসিফ জানান, ইফতার পার্টির আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনা রাতে হল পর্যন্ত গড়িয়েছে। নাঈমের অনুসারীরা ছাত্রাবাসের মধ্যে আল-আমিন নামের এক ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বঙ্গবন্ধু আবাসিক হলের কয়েকটি কক্ষ ভাংচুরও করেছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইফতার পার্টির আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে আমাদের হলের ভেতরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় আমরা ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা ছাত্র নেতাদের সাথে কথা বলে রাত সাড়ে বারোটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।