ইনজুরিতে মুস্তাফিজ !

101

যুগবার্তা ডেস্কঃ মুস্তাফিজুর রহমান এখন বিশ্ব ক্রিকেটের এক আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশের সেনসেশন তরুণ পেসার। গোটা বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকে আইপিএলে কাটারমাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের ৪টি ওভার দেখতে। সেই সাথে খাঁটি ক্রিকেটপ্রেমীরাও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ম্যাচ দেখতে চায় মুস্তাফিজের রহস্য বোলিংয়ের জন্য। কিন্তু শুক্রবার গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে আইপিএলের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে হায়দ্রাবাদের এই বাঁ হাতি বোলার খেলতে পারছেন না। ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য এটা বড় দুঃসংবাদ। হায়দ্রাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার টস জিতে দিল্লির মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুজরাটকে ব্যাটিংয়ে ডাকলেন। ভাবা গেলো, মুস্তাফিজের বোলিং দেখতে আজ আর অপেক্ষা করতে হবে না তেমন। কিন্তু একটু পরই ওয়ার্নার দিলেন দুঃসংবাদটা। জানালেন, “মুস্তাফিজুরের হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য সমস্যা আছে।” ওয়ার্নার সামান্য সমস্যা বলেছেন। কিন্তু জানা যায়নি সমস্যা একেবারে সামান্য নাকি বেশ গুরুতর। সময়ের সাথে জানা যাবে তাও।

ওয়ার্নারের একটি কথাই মুস্তাফিজ ভক্তদের কাঁপিয়ে দিয়ে গেলো। প্রথমবারে আইপিএলে খেলতে গিয়ে মুস্তাফিজ সবচেয়ে আলোচিত বোলার। ২০ বছরের এই বাংলাদেশী বোলার শুরু থেকে মুগ্ধ করেছেন তার কাটার-স্লোয়ার রহস্যে। যোগ হয়েছে দারুণ সব ইয়ার্কার। ১৫ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে হায়দ্রাবাদকে প্রায় ফাইনালের কাছে নিয়ে এসেছেন। ডেথ বোলিং এ আইপিএলের সব বোলারদের মাঝে সেরা মুস্তাফিজ। ১৬ থেকে ২০ ওভারে তার ইকোনোমি রেট ৭.২৮। কিন্তু সেই তাকেই এবারের আইপিএলের শুরু থেকে টানা ১৫ ম্যাচ খেলে এবার বসতে হয়েছে ডাগ আউটে।

২০১৫ সালে হই চই ফেলে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুস্তাফিজের আগমন। ভারতকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সিরিজ হারিয়েছিল প্রথম দুই ম্যাচে মুস্তাফিজ ১১ উইকেট নেওয়ায়। রহস্য ধরে রেখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর দুই দফা ইনজুরির কারণে তাকে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়তে হয়। প্রথমবার এই বছরের জানুয়ারিতে। কাঁধের ইনজুরিতে পড়েছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের ২ ম্যাচ খেলার পর। পরের দুই ম্যাচে তার খেলা হয়নি। এই ইনজুরির কারণে মিস করেছিলেন পাকিস্তান সুপার লিগে খেলাও।

এরপর এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে ফিরেছিলেন। কিন্তু ৩ ম্যাচ খেলার পর সাইড স্ট্রেইন ইনজুরিতে আবার মাঠ থেকে ছিটকে পড়তে হয় মুস্তাফিজকে। বিশ্বকাপের টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন তিনি। বাছাই পর্বে খেলতে পারেননি। অবৈধ অ্যাকশনের জন্য তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি নিষিদ্ধ হলেন মূল পর্বের মাঝে। পুরো ফিট হওয়ার আগে এক প্রকার বাধ্য হয়েই বিশ্বকাপের শেষের ৩টি ম্যাচে মুস্তাফিজকে খেলাতে হয়েছিল বাংলাদেশের। এরপর আইপিএলের গেলো দুই মাসে তো বিশ্রামই পাননি প্রতিভাবান তরুণ বোলার। সামনেই তার কাউন্টি দল সাসেক্সে খেলার কথা। এখনো বোঝা যাচ্ছে না সেই চাপ মুস্তাফিজ নেবেন কি না।