ইতিহাস সংরক্ষণ ও সামাজিক শিক্ষার প্রসারে দৃশ্যপাঠকে ‍গুরুত্ব দিতে হবে

5

ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য সংরক্ষণে দৃশ্য বা ভিজ্যুয়ালের গুরুত্ব অসীম। সাম্প্রতিককালে ফিল্ম, ফটোগ্রাফি ও অডিও ভিজ্যুয়ালের সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়লেও, সামাজিক শিক্ষার প্রসারে এই আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলার ইতিহাস তুলে ধরা, যথাযথ সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে বহুমূখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে, দৃশ্যব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তির নতুন মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে কীভাবে দৃশ্যপাঠ করা যায় এবং জ্ঞানের নতুন সঞ্চার ঘটানো যায়, সে ব্যাপারে সমাজবিজ্ঞানীদের আরো কাজ করা উচিৎ বলে মত দেন বক্তারা।

১৩ অক্টোবর বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় সিমেক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির আবুল হোসেন মিটিং রুমে আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষক ও গবেষকেরা। এর আগে সদ্য প্রকাশিত বই “দৃশ্য সংস্কৃতির পাঠ, নৃবিজ্ঞান ও দক্ষিণ এশীয় বিদ্যাজগত” এর মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি, সিমেক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট ও আইইউবিএটি’র অধ্যাপক ডক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম। বইটির সহরচয়িতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নৃবিজ্ঞানী ডক্টর মানস চৌধুরী বলেন, বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় নিত্য নতুন পরিবর্তন আনা হলেও প্রকৃত জ্ঞানের বিকাশ ও টেকসই শিক্ষামানের জন্য জাতীয় ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন । কলা, মানবিক ও সামাজিক বিদ্যার পাঠ্যসূচির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি শিক্ষার বিভিন্ন ধারার গবেষকদের মাঝে দূরত্ব কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। অধ্যাপক মানস বলেন, ছবি ও ভিডিওসহ যে কোন দৃশ্যব্যবস্থা যেমন ইতিহাস সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা না গড়ে তুললে ইতিহাস বিকৃতিরও সুযোগ তৈরি হয়। বইটির সহরচয়িতা ভিজ্যুয়াল ও মিডিয়া গবেষক ডক্টর সঞ্জীব রায় বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্ভাবনী ধারা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমাজগবেষকদের উচিৎ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার নতুন দিকগুলো নিয়ে কাজ করা। ডিজিটাল বিপ্লব, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির সামাজিক গুরুত্ব ও প্রয়োগ নিয়ে নৃবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর মঈন জালাল চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির ইতিহাস ও প্রযুক্তির সামাজিক গুরুত্ব ও প্রয়োগ নিয়ে গবেষনা করতে হলে বিভিন্ন বিভাগ ও ধারার গবেষকদের মাঝে জ্ঞানের আদান-প্রদান ঘটাতে হবে।

দক্ষিণ এশীয়ায় জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকতে হলে বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চা, সমন্বিত গবেষণা ও বিশ্বমানের পাঠ্যক্রম তৈরির কোন বিকল্প নেই বলে মত দেন আলোচকেরা। তারা বলেন, জাতিকে সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষত করতে হলে প্রযুক্তি নির্ভর ভিজ্যুয়াল কনটেন্টকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও সংলাপ অনুষ্ঠানটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন সিমেক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার আবু মুসা, অ্যাডমিনিসট্রেটিভ ম্যানেজার জামাল উদ্দিন আহমেদ, গবেষক ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।