ইকুয়েডরে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৭, আহত ৫৮৮

79

যুগবার্তা ডেস্কঃ দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমের দেশ ইকুয়েডরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০। ভূমিকম্পের পর দেশটির ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাসের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আজ রবিবার এ খবর দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলছে, ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আসছে। প্রেসিডেন্ট ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে ন্যাশনাল গার্ডকে উদ্ধার কাজে পাঠিয়েছেন। সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কিটোর একটি অংশ বিদ্যুৎহীন সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মান্তা শহরে বিমানবন্দরের একটি টাওয়ারও ভেঙে পড়েছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।
স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে এবং বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, শক্তিশালী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় শহর মুইসিন থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৯ কিলোমিটার গভীরে। এ ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পর আরও দুটি কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই তৎক্ষণাৎ দেশটির উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে, ঘণ্টা দুয়েক পর সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, সুনামির আশঙ্কা অনেকখানিই কেটে গেছে। কিটোর বাসিন্দা জোলিয়া ভিলেনাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি লিখেছে, আমার বাড়ি নড়ছিল, জিনিসপত্র ছিটকে পড়ছিল আর বাচ্চারা কাঁদছিল। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। ভূমিকম্পের পর প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার ও প্রতিবেশী দেশ পেরু সুনামি সতর্কতা জারি করে।
দেশজুড়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী। বিশ্বের বড় ভূমিকম্পগুলোর একটি ঘটেছে এই ইকুয়েডরেই। গত ১৩ জানুয়ারি ১৯০৬ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূকম্পন হয় এখানে। ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার সমুদ্র উপকূলে সৃষ্ট এই সুনামিতে মারা যান পাঁচ শতাধিক মানুষ। আহত হন আরও দেড় হাজার। মধ্য আমেরিকা ও সানফ্রান্সিসকোতেও অনুভূত হয় এই ভূমিকম্প। যার প্রভাবে হাওয়াইয়ের নদীগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল।