ইউপি ভোটে অনিয়ম হলে দায় পুলিশের

87

যুগবার্তা ডেস্কঃ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে কাঙ্খিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। ভোটের আগের দিন সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মিডিয়া সেন্টারে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলার সময় ভোটে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি ও কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন বলে হুঁশিয়ারও করেছেন তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটারদের নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিইসি দাবি করেন, “ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে”
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৮টা পর্য্ন্ত প্রথম ধাপের ৭২০ ইউপিতে ভোট হবে। এ ধাপে আরও ১২ ইউপির ভোট রয়েছে ২৭ মার্চের মধ্যে।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোটের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণ বা দায়িত্বে অবহেলা করলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।”
এসময় অনিয়ম রোধে নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ এবং আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রে যাতে কোনো কারচুপি ও জালভোটের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সজাগ থেকে প্রয়োজনে ‘সর্বশক্তি প্রয়োগের’ নির্দেশও দেন সিইসি।
“আজ (সোমবার) রাতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণ থাকবে। ইউএনও সার্বিক বিষয় তদারকি করবেন। কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটলে নির্বাচনী এলাকার ওসি, ওই কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়ী হবে।”
কাজী রকিব বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য জেলা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।
কেন্দ্রে কেন্দ্রে থাকবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, আনসার ব্যাটালিয়ন ও আনসার-ভিডিপির প্রহরা। টহলে থাকবে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য থাকবেন।
এসময় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বহিরাগত ঠেকানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “বহিরাগতরা যেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে এলাকায় প্রবেশ না করে। অবৈধ অস্ত্র যেন ব্যবহার না করে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও গোলযোগ-সহিংসতা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, জাবেদ আলী, মো. শাহনেওয়াজ ও ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।