আড়াইহাজার ও তুরাগে ৬ লাশ উদ্ধার

যুগবার্তা ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চার যুবক ও তুরাগের দিয়াবাড়িতে দুই যুবকের পরিত্যক্ত লাশ পাওয়া গিয়েছে।উদ্ধার হওয়া লাশ ছয়টির মাথা ও মুখমণ্ডল থেঁতলানো এবং গুলিবিদ্ধ।

জানাগেছে, রবিবার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে সড়কের পাশে চারটি লাশ ও রাজধানীর তুরাগের দিয়াবাড়ি নির্জন কাশবনের ভীতরে দুটি লাশ পাওয়া যায়।

আাড়াইহাজারে পাওয়া ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি দেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে। একটি লাশ ঢাকার রামপুরার গাড়িচালক লুত্ফর মোল্লার (৩৫) বলে হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করেছেন নিহতের স্ত্রী। নিহত ছয়জনেরই বয়স ৩৫ বছরের কিছু কম বা বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গতকাল ভোরে আড়াইহাজারে মহাসড়কের দুই পাশে দুজন করে চার যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানায়। নিহত একজনের পরনে ছিল লুঙ্গি ও গেঞ্জি এবং তিনজনের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট। চারজনের মাথার পেছনেই গুলির চিহ্ন আছে। মাইক্রোবাসচালক লুত্ফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা বেগম নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। তাঁদের বাসা ঢাকার রামপুরার বাগিচারটেক এলাকায়। লুত্ফর মোল্লা ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার উত্তর আকনবাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকার মনসুর মোল্লার ছেলে।

আড়াইহাজার থানার ওসি আব্দুল হক বলেন, সম্ভবত অন্য কোথায় হত্যা করে পাঁচরুখী এলাকায় লাশ ফেলা হয়েছে। নিহতরা ডাকাত হতে পারে—এ সন্দেহ থেকেও তদন্ত চলছে। লাশের পাশ থেকে দুটি দেশি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি ও নোয়া ব্র্যান্ডের একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো চ ১৩-০৫০১) জব্দ করা হয়েছে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, তাদের তথ্যভাণ্ডারে এই নম্বরের মাইক্রোবাসটি ‘সাসপেনডেড’ হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। কী কারণে গাড়িটি এভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাত্ক্ষণিকভাবে বিআরটিএ তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

নিহত লুত্ফর মোল্লার ছোট ভাই আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘আমার ভাই আগে ঢাকায় জসীমের গাড়ি চালাতেন। ১ অক্টোবর থেকে তিনি রফিকের গাড়ি চালান। ’ নিহত ভাইয়ের এক ছেলে রিশাত অষ্টম শ্রেণিতে ও মেয়ে লিজা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে । সাত্তার মোল্লা বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর ভাইয়ের লাশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বুঝে পেয়েছেন। লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হবে। ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে অন্য তিনজনের লাশ পড়েছিল বলেও জানান তিনি।

অপর দুই পরিত্যক্ত লাশ উদ্ধারস্থল দিয়াবাড়ীতে পরিদর্শনকারী তুরাগ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নির্জন কাশবনের অনেক ভেতরে লাশ দুটি পড়ে ছিল। আশপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। লাশে পচন ধরেছে জানিয়ে পুলিশ বলেছে, কয়েক দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। নিহত দুজনের একজনের পরনে ছিল প্যান্ট ও শার্ট, অন্যজনের প্যান্ট ও গেঞ্জি। মর্গ সূত্র জানায়, লাশ পচে যাওয়ায় দুজনের শরীরে কোনো আঘাত শনাক্ত করা যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।