আলোচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

97

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি-জগতে ২০১৫ সালের পুরোটা জুড়েই ব্যাপক আলোচনায় ছিল সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুক। বছরের শেষ ভাগে ১৮ নভেম্বর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরকার বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ, ইমোর মতো ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর এই মাধ্যমগুলো খুলে দেওয়া হয় ১০ ডিসেম্বর। এ বছর বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে। ফেসবুক বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ই-কমার্স খাতে। নিজস্ব ওয়েবসাইট ছাড়াও ফেসবুক ফ্যানপেজের মাধ্যমে পণ্য বিকিকিনি করেন হাজারের বেশি এমন উদ্যোগ এই সময়টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর প্রযুক্তিনির্ভর এই বাণিজ্যের মূল উদ্যোক্তা তরুণেরাই। বছরের বিভিন্ন সময় মর্মস্পর্শী ও মর্মান্তিক কিছু ঘটনা ফেসবুকের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম যেকোনো বিষয় আলোচনায় নিয়ে আসতে এক বড় অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করছে।
বেড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী
বাংলাদেশে এখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত নভেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ৪৮ শতাংশই মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এক বছরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ কোটির বেশি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হাজার।
বরাবরের মতো ২০১৫ সালেও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিটিআরসির হিসাবে, গত নভেম্বর পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৩১ লাখের বেশি। গত বছরের ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩ লাখের বেশি। এই বছর মোবাইল ফোনের সিমকার্ড নিবন্ধন ও পুনর্নিবন্ধনের ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ) প্রযুক্তিতে সিম নিবন্ধন শুরু হয়েছে।

জীবনযাত্রায় জড়িয়ে গেছে উচ্চপ্রযুক্তি
উচ্চপ্রযুক্তি নাগরিক জীবনে এখন জড়িয়ে গেছে ওতপ্রোতভাবে। নানা ব্র্যান্ডের অপেক্ষাকৃত কম দামের স্মার্টফোনগুলো ক্রেতা টানছে বেশি। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর দামি ফোনের বাজারও ভালো। অ্যাপলের আইফোন এ বছর আনুষ্ঠানিকভাবেই বাংলাদেশের বাজারে এসেছে। শুধু প্রয়োজন মেটানো নয়, ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেও স্মার্টফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্য এখন ব্যবহৃত হচ্ছে।
নানা রকম আয়োজন বছরজুড়ে
তথ্যপ্রযুক্তির নানা রকম আয়োজন ছিল বছরজুড়েই। সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সপ্তাহ পালন করা হয়। ইন্টারনেট নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে এই আয়োজনে ছিল নানা উদ্যোগ। রাজধানীতে বড় আকারে ল্যাপটপ মেলার আয়োজন করা হয়েছে দুবার। এ ছাড়া বিপিও সামিট, ফ্রিল্যান্সার মিট, ডিজিটাল মার্কেটিং সামিট ছিল আলোচিত আয়োজন।
মোবাইল ফোনের অ্যাপ তৈরির প্রতিযোগিতার সংখ্যা বেড়েছে ২০১৫ সালে। ইএটিএল-প্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয়বারের মতো। সামাজিক সমস্যার সমাধানে অ্যাপ বানানোর প্রতিযোগিতার ব্র্যাকাথনের আয়োজন করে ব্র্যাক। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাকে স্কুল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এ বছর। এপ্রিল-মে মাসজুড়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার। চলতি মাসে প্রথমবারের মতো হয় মেয়েদের জন্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এনজিপিসি। স্কুল শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটে দক্ষ করে তুলতে গ্রামীণফোন ও প্রথম আলো আয়োজন করে আই-জেন। দুই হাজারের বেশি স্কুলের ৮ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী যুক্ত হয়ে এ আয়োজনে। নানা ধাপ পেরিয়ে আই-জেনের চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা চলছে এখন।
যান্ত্রিক অনুবাদে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা

গুগলের যান্ত্রিক অনুবাদ-ব্যবস্থা গুগল অনুবাদে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় গুগল ডেভেলপার গ্রুপ জিডিজি বাংলা। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সারা দেশে আয়োজন করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সাত লাখের বেশি শব্দ যোগ হয় গুগল অনুবাদে। ভাষাভিত্তিক একমাত্র জিডিজি ‘জিডিজি বাংলা’র এই কর্মসূচি দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি সারা বছরই সক্রিয় ছিল জিডিজি সোনারগাঁ ও জিডিজি ঢাকা। এ বছরই দেশে শুরু হয়েছে গুগলের উইমেন টেক মেকার্সের কার্যক্রম।

জনতা টাওয়ারে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক
দীর্ঘদিন পরে অবশেষে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক চালু হয়েছে এই বছর। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করলেও পার্কটি এ বছরও চালু হয়নি।

দেশি মার্কেটপ্লেস
ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের জন্য দেশি বাজার চালু হয়েছে এ বছর। বিল্যান্সার ডটকম ইতিমধ্যে ফ্রিল্যান্সারদের নজর কেড়েছে।

দুই অতিথি
ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আসেন মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস। বাংলা উইকিপিডিয়ার ১০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। ডিসেম্বরে ঢাকায় আসেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো গুতিয়ারেজ। তিনি বিপিও সামিট ও ফ্রিল্যান্সার সামিটে যোগ দেন। প্রথম আলো