“আমিই মৃত্যু, আমিই কাল”

49

যুগবার্তা ডেস্কঃ ১৯৪৫ সালে আমেরিকার হয়ে প্রথম পরমাণু বোমার সফল পরীক্ষার পর এই মন্তব্য করেছিলেন বিজ্ঞানী জে রবার্ট ওপেনহেইমার। বাকিটা ইতিহাস। ভুল হাতে পড়লে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে তা বুঝতে পেরেছিলেন পরমাণু বোমার জনক। এবার বিজ্ঞানের আরেক নেতিবাচক রূপ দেখল বিশ্ব।আমেরিকা থেকে চুরি যাওয়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে শুক্রবার বিশ্ব জুড়ে সাইবার হামলা করেছে একদল হ্যাকার। আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের প্রায় ১০০টি দেশ হ্যাকারদের হামলার শিকার হয়েছে। সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনে। সে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে টার্গেট করেছে হ্যাকাররা। তার ফলে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলির কম্পিউটার কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ‘ডেটা বেস’ খুলতে না পারায় বহু রোগীকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় হাসপাতালগুলি। উল্লেখ্য, বিশ্ব জুড়ে সাইবার হামলা চালাতে হ্যাকাররা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে তা তৈরি করেছে আমেরিকার ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি’ (এনএসএ)। কোনওভাবে সেই প্রযুক্তি চুরি যায় এবং তা হ্যাকরদের হাতে চলে আসে। তবে কি করে তা চুরি গেল এখনও জানা যায়নি।
এনএসএ-এর তৈরি ‘এটারনেল ব্লু’ নামের কোড চুরি করে ছড়িয়ে দেয় ‘শ্যাডো ব্রোকার’ নামের একটি গ্রুপ। সেই কোড ব্যবহার করে ই-মেইল ও অন্যান্য পদ্ধতিতে হামলা চালায় আক্রান্তদের কম্পিউটারে। সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ‘ব়্যানসম ওয়্যার’ নামের এক ভাইরাস। সঙ্গে সঙ্গেই বিকল হয়ে যায় কম্পিউটারগুলি। ফের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আক্রান্তদের বাধ্য করা হয় ৩০০ থেকে ৬০০ ডলার টাকা হ্যাকারদের অ্যাকাউন্টে তুলে দিতে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সফটওয়্যার নির্মাণকারী সংস্থা মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ‘এটারনেল ব্লু’ নামের ওই কোড সম্পর্কে গ্রাহকদের সুরক্ষার জন্য তাঁদের উদ্দেশ্যে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে।
এই ভাইরাসের প্রভাব সব থেকে বেশি পড়েছে ইউরোপ ও রাশিয়ায়। আমেরিকায় কিছুটা প্রভাব পড়লেও নিরাপত্তাসংস্থাগুলি সতর্ক হয়ে যাওয়া রুখে দেওয়া হয় ওই হামলা। এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও সংগঠন।”-সূত্রঃ ফেইসবুক