আমাদের নিরাপত্তার সহায় আসলে কারা?

108

নাদিরা কিরণঃ চোখের সামনে বড় অপরাধ দেখেও কিছুই না করার এই দেশে ছোট্ট অপরাধে ফুঁসে ওঠা বলদের খেদোক্তি হয়ত। তবু ক্ষোভ হয় বৈকি। সপ্তাহের ছয়দিন পেশার গন্তব্যস্থলে বা যাতায়াতে ফার্মগেট পেরুতেই হয়। দিনের আলোয় যেমন তেমন, সন্ধ্যার পর থেকে এ রাস্তায় একটু বেখেয়াল তো খোয়া যেতে পারে যে কোন কিছু। ছিনতাই, হাইজ্যাকার এর আড্ডাখানা।
দিন শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমি আর ড্রাইভার প্রায়শই যে অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়ি,তা হলো হঠাৎ একটি ছোট বড় চিৎকার, একজনের তীব্র জোড়ে দৌড়। বুঝতে অসুবিধা হয়না কারো কিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে ছিনতাইকারী।
বাসের জানালায় কথা বলছে কেউ, কিম্বা ঘড়ি সমেত হাতটি জানালায় । মোটরবাইকে চড়ে স্বামী,ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে যাচ্ছে কেউ। সিগন্যালটি ছাড়তেই ছিনতাইবাজ বাজ পাখির মতোই ছোঁ মেরে মোবাইল, ঘড়ি বা গলার চেইন নিয়ে ছুট।
যার যায়, গাড়ির চলার গতিতে যতটুকু দেখা যায়, করতে বেচারার হতবিহ্বল মলিন চেহারা দেখে মায়া হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকেনা। পিক আপের পেছনে, বাড়ি নির্মাণের বা ডেকোরেশন এর জিনিসপত্র। চোখের সামনে তেমন কিছুও ছিনতাই হচ্ছে হরহামেশাই।
নিজের গাড়িতে বসেও আমার এমন অভিজ্ঞতা কম নয়। তিনজনের মাঝে থাকা বোনের মোবাইল টি হাপিশ।অল্প কাঁচ নামানো অবস্থায় গাড়িতে যাওয়ার পথে আমি নিজেও সার্ক ফোয়ারার কাছে পড়লাম একদিন। ছিনতাইবাজের এবার ব্যর্থ মিশন। মোবাইলটা শয়তানটার ধাক্কায় উল্টে গাড়ির ভিতরেই পড়লো। আমিও কম নই। ধরলাম শয়তানটার হাত। এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে দৌড়। আমি তাকিয়ে দেখলাম সার্ক ফোয়ারার সামনে আড্ডা মারা ছেলেদের একজনই সেই ছিনতাইকারী। পাশেই সার্জেন্ট পুলিশ ভাইরা দাড়িয়ে আছেন দিব্বি। রাগে ফুঁসে বললাম আপনাদের সামনেই এসব হচ্ছে। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে পুলিশটি যেন দৌড় দেওয়া ছোকরাটিকে খুঁজতে গেলো। আমি রাগে বাড়ির পথে।
গত দুদিন ধরে তেমন দুটো ছিনতাই এর ঘটনা চোখের সামনে। আজকেরটি মোবাইল। বাস থেকে নিয়েই দৌড়। তবে কালকের ঘটনাটি মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাস থেকে তেমনই কিছু টান দিতে গিয়ে নিতে ব্যর্থ ।বাস থেকে চিৎকার করায় এমন ক্ষুব্ধ ছিনতাইকারীর ভাষ্য- ঐ চিৎকার করবিনা একদম গুলি করে দিবো। তাকিয়ে দেখলাম, পুলিশ ঘুরছে পাশেই ।
যতদুর জানি, (বিশ্ববিদ্যালয় এর বড় ভাই পুলিশের বড় কর্মকর্তার মুখ থেকে শোনা ) এলাকা ভিত্তিক এসব ছিনতাইকারিদের সবারই পুলিশের অপরাধ তালিকায় নাম রয়েছে। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ কি তাহলে খুবই কঠিন ? ফার্মগেট, সার্ক ফোয়ারা, বাংলামোটর, শাহবাগ পর্যন্ত এ রাস্তাটি নিয়ন্ত্রণের দায় তাহলে কার? পুলিশের সামনেই কি করে এমন ছিচকে অপরাধকারীরাও এমন হুমকি দিতে পারে ? আমাদের নিরাপত্তা সহায় তাহলে কারা?
-লেখকঃ নাদিরা কিরণ, এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।