আমাকে গ্রেফতার ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল

75

যুগবার্তা ডেস্কঃ ১৯৯৭ সালে আমাকে গ্রেফতার করে আওয়ামী লীগ সরকার ভুল করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া।
দীর্ঘ ১৮ বছর বাংলাদেশের কারাগারে বন্দিত্ব জীবন শেষে গতবছর ১১ নভেম্বর দেশে ফেরার পর গত ২৬ জানুয়ারি আসামের ডিব্রুগড় জেলার জেরাইগাঁওয়ে নিজ বাড়িতে আমাদের সময় ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে অনুপ চেটিয়া দাবি করেন যে, তাকে গ্রেফকার করা যে ভুল হয়েছিল সেটা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার স্বীকারও করেছিল।
তিনি বলেছেন, আমাকে গ্রেফতারের পর এসবির (পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এসপি ওয়াছেদ ও আব্দুল হান্নান আমাকে বলেছিলেন, আপনাকে গ্রেফতার করে তো আমাদের ভূল হয়েছে। আপনাকে ছাড়তেও পারছি না। আবার ভারতে দিতেও পারছি না।অনুপ চেটিয়া দাবি করেন যে, গ্রেফতারের সময় পাঁচজন এসবির লোক এসেছিল। তাদের মধ্যে দুজন ইন্সপেক্টর গ্রেফতারের পরে আমাকে বলেছিলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম আপনাকে গ্রেফতার করে ছেড়ে দেবে। আগে যদি জানতাম তাহলে আপনাকে গ্রেফতার করতে যেতাম না। আগেই ইনফরমেশন দিয়ে দিতাম।’
তিনি বলেন, ‘যারা আমাকে গ্রেফতার করেছে তারা খারাপ ছিল না। সরকার পলিসি নিয়েছিল আমাকে গ্রেফতার করবে সেখানে তাদের করার কিছু ছিল না।’
বর্তমানে ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে কি আপনারা এখন সশস্ত্র আন্দোলন থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অনুপ চেটিয়া বলেন, এখনও গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করিনি। প্রথমে আমরা চেষ্টা করব ভারতের সংবিধানের অধীনে একটি শান্তি চুক্তি করে আসামের জন-জাতিগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইতোমধ্যেই আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি দাবি উত্থাপন করেছি। এ দাবিগুলো যাতে বাস্তবায়ন করতে পারে প্রথমে সে চেষ্টা করব। চুক্তি হওয়ার পর আমরা কী করব এটা পরে আসবে। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন করব না। চুক্তি হওয়ার আগে আমরা উলফার সাবেক সদস্য ও যারা শহিদ হয়েছে তাদের পরিবার নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গড়ার চেষ্টা করব।
পরেশ বড়ুয়ার অংশের উলফা (স্বাধীন) এখনও স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। আপনি কি তার বিপক্ষে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অনুপ চেটিয়া বলেন, সে তো চলে গেছে একা। সে সশস্ত্র আন্দোলনের পক্ষে থাকবে। সে তার চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে সে কী করবে বা না করবে সে ব্যাপারে আমার বলা ঠিক হবে না। এটা তার নিজস্ব ব্যক্তি স্বাধীনতা। ব্যক্তিগতভাবে সে কী কী করবে সে অধিকার তার আছে।মাছুম বিল্লাহ, আমাদের সময়.কম