আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ!

102

সামিয়া রহমান।
এক সাত সকালে ছয়টি ঋতুর মধ্যে জোর তর্কাতর্কি শুরু হয়ে গেল। শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত্, হেমন্ত— এ বলে আমায় দ্যাখো, ও বলে আমি শ্রেষ্ঠ। কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান। শীত বলে, ‘যখন আমি আসি, আনন্দ নিয়ে আসি, বিশেষ করে বাংলাদেশে। দ্যাখো তো এখন চারদিকে কেমন বিয়ের উত্সব। সাজগোজ, পিঠা পার্বণ। সারা বছর এদেশের মানুষ সুন্দর সুন্দর শীতের পোশাক পরার সুযোগ পায় না। আমাকে উপলক্ষ করে কত পোশাক তারা কেনে। হালকা শীতেও এস্কিমোদের পোশাক। যত না শীত, তার চেয়ে ফ্যাশন। ব্যবসার রমরমা। এত উচ্ছ্বাস নিয়ে তোমরা কি আসতে পার? আমিই শ্রেষ্ঠ।’
বসন্ত বলে, ‘শীত তুমি শুধু বিয়ে আর ফ্যাশন দেখছ। কত মানুষ শীতে কাঁপছে, কষ্ট পাচ্ছে, তা দেখছ না। তুমি নয়, আমি শ্রেষ্ঠ। আমি এলে ফুল ফোটে, পাখি গান গায়। নতুন পাতা গজায়। না শীতের কাঁপুনি, না গ্রীষ্মের যন্ত্রণা।’
গ্রীষ্ম বলে, ‘চুপ বেয়াদব। সারা পৃথিবীর কাছে আমি আরাধ্য। গ্রীষ্ম হলো কাজের সময়। শীতের দেশে যাও তো, দ্যাখো তারা আমায় নিয়ে কীভাবে উপাসনা করে। গ্রীষ্মকালে আম পাকে, জাম পাকে, পাকে ফল শস্য। আমার প্রচণ্ড তেজ তাপেই প্রমাণ আমি কত ক্ষমতাবান, অতএব আমি বীরশ্রেষ্ঠ।’
বর্ষা মৃদু হেসে বলে, ‘গ্রীষ্ম তোমার মনে আছে সুকুমার রায়ের ছড়ার কথা? – ‘ঐ এল বৈশাখ, ঐ নামে গ্রীষ্ম, খাই খাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব। চোখে যেন দেখি তার ধূলিময় অঙ্গ, বিকট কুটিল জটে ভ্রূকুটির ভঙ্গ, রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে, ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে! মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাসে মাত্রে, তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে!’ৃ তুমি আসো পৃথিবী জ্বালাতে, আমি আসি স্নিগ্ধতা নিয়ে। আমি কবিতার ঋতু, প্রেমের ঋতু, ভালোবাসার ঋতু, প্রকৃতির রানী আমি। প্রচণ্ড দাবদাহের পর রিমঝিম বৃষ্টিতে নতুন যৌবন নিয়ে আমি আসি পৃথিবীকে রাঙাতে। আমি ছিলাম এবং আমি আছি বলেই বাংলার কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, প্রেমিকযুগলরা তাদের সাহিত্য, কাব্য, সংগীত, প্রেম, ভালোবাসার জগতে বিচরণ করতে পারে। ভুলে গেছ কালিদাসের ‘মেঘদূত’? আষাঢ়ের প্রথম দিবসে নববর্ষার মেঘ কবির কল্পনায় হয়ে উঠেছিল অলকাপুরীর রম্যপ্রাসাদে বিরহী প্রিয়ার বার্তাবাহক প্রাণবন্ত জীবন্ত দূত— যা বর্ষাকাব্য, গীতিকাব্য, বিরহকাব্য নামে সবাই জানে। অথবা মনে কর সেই বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত, ‘এমনও দিনে তারে বলা যায়, এমনও ঘন ঘোর বরিষায়। এমনও দিনে মন খোলা যায়, এমনও মেঘ স্বরে বাদল ঝরঝরে তপনহীন ঘন তমসায়, এমনও দিনে তারে বলা যায়’। অথবা ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ৃ কোনটি ছেড়ে কোনটি বলি? আমার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ আমার কর্মে।’
শরত্ বলে, ‘ওহে বর্ষা এত যে অহংকার তোমার, ভুলে কি গেছ তোমার কারণে পৃথিবীকে কী পরিমাণ দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় প্রতি বছর? বন্যায় ভাসিয়ে নাও একূল ওকূল। কত মানুষের জীবন যায়, কত মানুষ ঘরহারা হয়, ভেবেছ কি কখনো? সৌন্দর্য নিয়ে তুমি মগ্ন, ‘ভালো’— কিন্তু আমাদের সৌন্দর্য কি কম! এক অনাবিল কোমলতা স্নিগ্ধতা নিয়ে আমি আসি। ভাদ্রের ভোরের সূর্য মিষ্টি আলোর স্পর্শ দিয়ে প্রকৃতির কানে কানে আমার আগমন বার্তা জানান দেয়। ঝকঝকে নীল আকাশে শুভ্র মেঘ, ফুলের শোভা আর শস্যের শ্যামলতায় আমি উদ্ভাসিত হই। আমাকে নিয়ে কি গান কবিতা হয়নি? ‘আজি ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায়, লুকোচুরি খেলা, নীল আকাশে কে ভাসালে, সাদা মেঘের ভেলা’ৃ নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীতীরে কাশফুল, ভোরে হালকা শিশির ভেজা শিউলি ফুল— সব মিলিয়ে আমি শুভ্রতার প্রতীক। শুধু দিনে নয়, রাতের শরতের জ্যোত্স্নার রূপেরও তুলনা নেই।’
হেমন্ত বলে, ‘থামো গো থামো, বাতাসে ধানের গন্ধ যদি পেতে চাও, নারিকেল পাতার ফাঁক দিয়ে পরিপূর্ণ চাঁদের আলোয় পুবের রাঙা আকাশ যদি দেখতে চাও, তবে হেমন্তের কাছে মাথা নত করতেই হবে। কৃষকের ঘরে ঘরে আনন্দ, নবান্ন উত্সব আমি না থাকলে হতো? যন্ত্রণাদায়ক শীতের পূর্বাভাস তো আমিই তোমাদের জানিয়ে দেই।’
কোনো ঋতুই নিজের দাবি ছাড়ে না। প্রত্যেকে সর্বশ্রেষ্ঠ হতে চায়। শেষ পর্যন্ত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে প্রবল প্রতাপে মর্ত্যভূমিতে তাদের আগমন ঘটে। এমনই তাদের প্রতাপ। বর্ষা এলে অধিক বন্যায় দেশ প্লাবিত হয়। গ্রীষ্ম এলে হয় জান ওষ্ঠাগত। শীত আসেই না এই বঙ্গদেশে। এলেও বসন্তের ঘাড়ের ওপর দিয়ে আসে। প্রচণ্ড দাবদাহে, বন্যায় ফসল নষ্ট হয়। ষড়ঋতুর বারোটা বাজে। সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার কী আকুল চেষ্টা!
হঠাত্ করে এই অদ্ভুত গল্প শোনালাম কেন? চারপাশে প্রতিদিন কত অজস্র ঘটনা ঘটে চলেছে। আমরা দর্শক হয়ে দেখেই চলি। আমরা সব সময় বলি বাঙালি জাতি আবেগপ্রবণ, কোনোই সন্দেহ নেই। কিন্তু একটা প্রশ্ন আমার আছে। আমরা কি বিনয়ী জাতি? বিনয়ীরা কি নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে অন্যকে খাটো করে?
নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে গিয়ে আমরা সর্বদাই অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজি। প্রতিযোগিতায় নেমে যাই। আর বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তো আমরা সবাই লেখক, সবাই পরামর্শক। প্রয়োজন না থাকলেও উপযাচক হয়ে অন্যকে ছোটো করে তার অবস্থান-মর্যাদাকে খাটো করতে একবিন্দু পিছপা হই না। আমরা তো সর্বশ্রেষ্ঠ, তাই না?
দেশে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন তাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য। ‘যৌক্তিক না অযৌক্তিক’ সেই তর্কে আজ আর যাব না। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে, টকশোতে বহুবার আলোচনা করেছি। অভিযোগও এসেছে আমি সঞ্চালক হিসেবে নিজের মৌলিক পরিচয় লুকাতে পারি না কেন? যেমন এর আগে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগের মুখোমুখি আমাদের হতে হয়েছিল। তখনো অভিযোগ এসেছিল, আমরা পক্ষপাতিত্ব করি, দেশের হয়ে, মুক্তিযুদ্ধের হয়ে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষ নিয়ে। দেশ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব আমরা করবই এবং এটিই স্বাভাবিক। নিরপেক্ষতার ভান, এখানে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতারই শামিল। আর সেটিই ন্যায়, সেটিই সত্য। সত্যের পক্ষে থাকতে গিয়ে আমাদের গায়ে আওয়ামী লীগের দালালের তকমাও মেরে দেওয়া হয়। দেশ, জাতি নিয়ে কথা বললেই যেন রাজনৈতিক ছাপ্পড় আমাদের লাগাতেই হবে। ঠিক তেমনি যে কোনো বিষয়ে, সেটি যদি ন্যায় এবং যৌক্তিক হয় তবে তার সঙ্গেও আমি থাকতে চাই। যেটি বলেছিলাম শুরুতে, যৌক্তিক না অযৌক্তিক সেই আলোচনা দীর্ঘায়িত করে পৃষ্ঠা ভরানোর কোনো আগ্রহ আজ নেই কিন্তু সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের ব্যাঙের ছাতার মতো উপযাচক শ্রেণি দেখতে পেলাম সোশ্যাল মিডিয়াতে। যারা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে সফলতার ছাপ রাখতে পারেননি যোগ্যতা দিয়ে কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে উপদেশ বিতরণে, শিক্ষকদের অপমানে তাদের ক্লান্তির কমতি নেই। নানারকম হাস্যকর ছক, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে তারা প্রমাণের চেষ্টায় নিয়োজিত যে, শিক্ষকরা কত দুর্নীতিবাজ, কতটা অযোগ্য, কতটা অদক্ষ! শিক্ষকদের ছোট করে কী নিদারুণ শান্তি তারা পেয়েছেন সেটি বোধগম্য নয়, তবে তাদের আচরণের মধ্যদিয়েই তারা নিজেরাই প্রমাণ দিয়েছেন, তারা যখন শিক্ষার্থী ছিলেন কতটা দুর্বল মানের শিক্ষার্থী ছিলেন। কেউ যদিবা দেশে বা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন কিন্তু তাদের আচরণের মধ্যদিয়েই প্রমাণ মেলে তাদের পারিবারিক শিক্ষার কত অভাব ছিল। তারা হয়তো যুক্তি দেবেন, শিক্ষকরা তাদের কর্মের মধ্যদিয়ে সম্মান হারিয়েছেন। কিন্তু সব শিক্ষক খারাপ, আর আপনারা গুটিকয় পরামর্শকই সর্বশ্রেষ্ঠ?
ন্যূনতম জ্ঞানটুকু নেই বলেই তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা, প্রকাশনা, কর্ম-সময় ছাড়া যে কারও পদোন্নতি হতে পারে বা যে কেউ অধ্যাপক হয়ে যেতে পারেন— অনেকটা অটো প্রমোশন। প্রতিটি পদের জন্য যে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হয়, গবেষণা থাকতে হয়, নির্দিষ্ট বছর পার করতে হয়— সে বিষয়ে তাদের জ্ঞানের অভাবে কি এই অজ্ঞতা? নাকি ইচ্ছাকৃত ভুল? অথবা প্রতিটি পদ যে নতুন সিলেকশন সে বিষয়েও কি তাদের জ্ঞান নেই? পিএইচডি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয় পদোন্নতির জন্য, বরং পিএইচডি ডিগ্রি বা অন্যান্য ডিগ্রি পদোন্নতিতে অতিরিক্ত পয়েন্ট হিসেবে যুক্ত হয়, সেই ন্যূনতম জ্ঞানটুকুও নেই বোধহয়। তাই শিক্ষকদের জোচ্চোর, অযোগ্য, অনৈতিক বলার প্রবল প্রয়াস। বলা হচ্ছে শিক্ষকরা তো এমনিই সম্মানীত ছিলেন, আলাদা করে আবার সম্মান চান, কী হাস্যকর কথা! কত বায়না! ওই যে বলে না ‘বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলেই পরিচয়।’ আমাদের কথা, আমাদের কর্ম, আমাদের ব্যবহারই জানান দিচ্ছে কতটুকু সম্মান মর্যাদা শিক্ষকরা পেয়ে এসেছেন বা পাচ্ছেন।
অভিযোগ এসেছে, শিক্ষকরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে গিয়ে নিজেদের আওয়ামী লীগ, বিএনপির কর্মী বানিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু সরকার বা আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা এই পরামর্শকরা কী ভেবে দেখেছেন, সব শিক্ষক কিন্তু দলীয় পরিচয় বাদ দিয়েই এবার তাদের অবনমন ঠেকাতে চান।
বলা হচ্ছে, শিক্ষকরা কেন আমলাদের সঙ্গে অহেতুক নিজেদের তুলনা করছেন? সে প্রশ্ন আমারও ছিল। কিন্তু শিক্ষক নেতাদের যুক্তি, নিজেদের ক্ষমতাবলে আমলারা এই অবনমনের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছেন। নিজেদের পদাধিকারের বিষয়টি কয়েক ধাপ বাড়িয়েছেন। যার কারণে এই অবনমনের সূত্রপাত। ১৯৭৭ সাল থেকে শিক্ষকরা সর্বোচ্চ গ্রেড পেতেন। এখন সিলেকশন গ্রেড উঠিয়ে দেওয়াতে গ্রেড থ্রি থেকে গ্রেড ওয়ানে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ রইল না। আবার ২০১২ সালে সিনিয়র সচিব পদটি বাড়ানোর ফলে শিক্ষকরা আরও পিছিয়ে গেলেন। সমতার আপেক্ষিক অবস্থার অবনমন ঘটল। একজনকে উপরে উঠানোর জন্য আরেকজনকে নামানোর এই চেষ্টা কেন? শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি এই সিদ্ধান্ত প্রণয়নে ছিলেন না। যদিও বেতন কমিশনের সভাপতি ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন গণমাধ্যমে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। হয়তো শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত প্রতিনিধি তিনি নন। আমলাদের বক্তব্য, তাদের সঙ্গে তুলনা করার যৌক্তিকতা নেই। কারণ তারা শুধু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো এত ক্ষমতা তাদের নেই। সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষমতা ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর। অর্থাত্ রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তবে আমলাদের সঙ্গে কেন এই তুলনা?
নানা বৈষম্য, সমালোচনা বা শিক্ষক আন্দোলন যাই হোক না কেন সমাধান অবশ্যই আলোচনায়। কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। প্রতিটি পেশার রয়েছে নিজস্ব সম্মান, নিজস্ব যোগ্যতা। কিন্তু এর সুযোগ নিয়ে কতিপয় ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়াতে যে বাণী দিচ্ছেন তা সত্যিই দুঃখজনক। নিজের সুবিধা বাড়ানোর জন্য অন্য পেশার অবনমন যেমন দুঃখজনক, তেমনি আন্দোলনের পক্ষে বিপক্ষে যে দলেই থাকুন না কেন, শিক্ষকদের নিয়ে কটূক্তি, নোংরামি কথা বা গল্প, রম্য রচনা ছেপে আপনারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারছেন কিনা জানি না কিন্তু আপনাদের ক্ষুদ্র দীনতা প্রকাশ পাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
অনার্স মাস্টার্সে দু-দুটি স্বর্ণপদক পেয়ে, চারটি ফার্স্টক্লাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর অধিকার করে শিক্ষকতা করতে এসেছি তো, তাই শিক্ষকদের এই অসম্মান আমার কাছে অনেকটা নিজের সন্তানের কাছে অসম্মানীত হওয়ার মতো। অন্যায় কোথাও নেই তা বলছি না। অন্যান্য পেশায় যেমন আছে, তেমনি এই পেশায়ও আছে। এখানেও দেখেছি প্লেজারিজম করে পদোন্নতি পেতে, চারটি ফার্স্টক্লাস না থাকা সত্ত্বেও সিলেকশন হতে, কিন্তু সেটি সংখ্যায় এত নগণ্য যে, গড় করেও মাপা যায় না।
রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী নেতারা বরং তাদের অন্যায় আচরণ বা আবদার এক্ষেত্রে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সংখ্যায় নগণ্য কয়েকজন মানুষকে দিয়ে বিচার করে কতিপয় সাংবাদিক, কূটনীতিক বা গুটিকয় আমলা শিক্ষকদের তুলাধোনা করে গোটা জাতির অপমান করছেন। আর শিক্ষকদের অপমান নিজের বাবা-মা’কে অপমানের শামিল, সেটি বোঝার মতো মানসিক সক্ষমতা কি তাদের আছে?
শেষ করছি একটি জোকস দিয়ে।
শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন, কলম দিয়ে তোমরা কী কর?
-লেখালেখি করি, ছাত্রের উত্তর।
-ধান থেকে কি পাও?
-চাল।
-চাল দিয়ে কী করি আমরা?
-ভাত খাই।
-মুরগি থেকে কি পাও?
-মাংস।
-আর গরু তোমাদের কি দেয়?
-হোমওয়ার্ক!
আমাদের শিক্ষকদের আজ অসম্মান-অপমানের চূড়ায় ঠেলতে ঠেলতে ওই গরুর পর্যায়েই নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, একাত্তর টেলিভিশন।