‘আমরা মৈত্রী’ সংগঠনের ঘোষণা

88

যুগবার্তা ডেস্ক: আমরা মৈত্রী। আমরা বাংলাদেশের মৈত্রী। যে বাংলাদেশ ১৯৭১ এ জন্ম নিয়েছিলো জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ভিত্তি করে, আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সেই বাংলাদেশ যখন ক্ষতবিক্ষত হয়, আমরাও তার সাথে ক্ষতবিক্ষত হই। একুশে ফেব্রæয়ারি, ছাব্বিশে মার্চ, ষোলোই ডিসেম্বরের বাংলাদেশ যখন আবার লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ায়, আমরাও সেই সাথে প্রত্যয় ঘোষণা করি ঘুরে দাঁড়ানোর, লড়াই করার। আমরা রাজনীতি সচেতন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড় নই। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের যে রাজনীতি, আমাদের দর্শন তাই: জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র।

সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী উগ্র সশস্ত্র জঙ্গিবাদ যখন বাংলাদেশের উপর আঘাত হানতে উদ্যত, তখন আমরা জানবাজি লড়াইয়ে প্রস্তুত। বিশ^মানবের পরম শত্রæ সা¤্রাজ্যবাদ যখন বাংলাদেশ কিংবা তাবৎ দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে তার বিষ নিঃশ^াস ফেলে, আমরা বাংলাদেশের পক্ষে লড়াইয়ে প্রস্তুত, আমাদের সংহতি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে দুনিয়ার সেই প্রান্তের সেই আক্রান্ত মানবতার পক্ষে। বাংলাদেশের স্বকীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে আমাদের সম্মান দুনিয়ার সকল মানুষের নিজস্বতার প্রতি। আমাদের শিকড় কর্মযোগী কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিকের শ্রমে গাঁথা। চিরবঞ্চিত ওই মেহনতি মানুষের জীবনদর্শনই আমাদের দর্শন। সব হাতে কাজ, সব মুখে ভাত আমাদের চাওয়া। বেকারত্বের নীল বিষ যে যুবককে তিলে তিলে মারে, আমাদের শক্তির উৎস সেই। শিক্ষার উপর যখন সাম্প্রদায়িকতার আঁচড় নেমে আসে, আমরা উদ্বিগ্ন হই। শিক্ষাকে যখন মুনাফার পণ্যে পরিণত করা হয়, তার বিপরীতে আমরা চাই শিক্ষার দ্বার হোক অবারিত। মাতৃরূপী নারীকে যারা মানুষের বদলে ভোগের বস্তুরূপে দেখে, আমাদের সংগ্রাম সেই নরপশুদের বিরুদ্ধে। গ্রাম-শহর, মেহনতি-মালিক, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ ইত্যকার সকল বৈষম্যের বিপরীতে আমরা চাই এক মহৎ মানবিক কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে ব্যবস্থা প্রবর্তনে আমাদের পূর্বপুরুষেরা লড়ে রচনা করেছিলেন শত বছরের সংগ্রামের ইতিহাস। আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী।

সূর্য সেন, প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, বিনয়, বাদল, দীনেশ, তিতুমীর, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ, আসাদ, মতিউর, একাত্তরের ত্রিশ লাখ শহিদ, মতিউল, কাদের, জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চন, মিলন, নূর হোসেন, জামিল, রীমু, রূপম, ফারুক, আইয়ুব, পান্না, বাবলু, আসলাম, বারী, সেলিম, নাসিম, শামীম, রাসেল, সানি, প্রমুখ বীর শহিদেরা আমাদের মাথাউঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা। আমরা সেই শহিদদের আত্মদানের মৈত্রী।