আবার আমার “রিক্সাবন্ধু” আজিম প্রসঙ্গ।

104

হাই বক্সঃ বানারীপাড়ার কম্পিউটার জগতের কেহ যা পারলনা, একজন রিক্সাচালক তা’পারল। আমার কম্পিউটারের ৬মাস বয়সী প্রিন্টারের কার্টিজের উপড়ের কভার ফেটে গেছে। প্রিন্ট নেয়না। ঘুড়লাম বানারীপাড়ার সকল কম্পিউটার সেন্টারে-দোকানে।এ বিষয়ে পারদর্শি সকল ছাত্রদের দ্বারে দ্বারে। সকলের বক্তব্য, “নতুন কিনতে হবে।যেতে হবে বরিশাল।দাম ৩২শত টাকা”।ছাত্র আল-আমিনকে বললাম, তোমার ঈধহড়হ ২৭৭২ মডেলের পুরাতন ফেলে দেওয়া প্রিন্টার নেই?“আছে”।আমাকে একটা দিতে পার? দিয়ে দিল আলআমিন।মনে মনে ভাবছিলাম আজিমের কথাই।আর অসাধ্য সাধন করল সকলের চোখে-“সাধারণ রিক্সা চালক” আজিমই। দুটি প্রিন্টারিই খুলে ফেলল।ঐ পুরাতন প্রিন্টার থেকে কার্টিজের উপড়ের কভার দ’টো খুলে আমার প্রিন্টারে লাগিয়ে দিল।আবার সেট করল প্রিন্টার দু’টো। ঠিক হয়ে গেল আমার প্রিন্টার। ভাবছি এ আজিম যদি লেখা পড়ার সুযোগ পেত তা’হলে সে হয়ত প্রযুক্তি বিষয়ক লাইনে সফল কর্মজীবী হোত। এভাবে কত “ফুলের কলিরা” অকালে ঝরে গিয়ে হারিয়ে যায়! কেউ কি তার খবর রাখি? আবার আমার বিপদে পাশে এস দাঁড়ালো আমার সেই “রিকসা-বন্ধু আজিম”।বন্ধুত্ব বাঁধল গভীর বাঁধনে। তাইতো বলি-বন্ধুত্বের কোন সীমারেখা নেই; বড়-ছোট, উঁচু-নিচু, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কোন ভেদাভেদ নেই; সে সর্বজনীন।তারপরও কথা থেকে যায়, আজকাল সময়ের ব্যবধানে যুগের হাওয়ায় বন্ধুত্বের রং পাল্টে যায়।সময়ের ব্যবধানে সামান্য পার্থক্যে কত বন্ধুত্ব হারিয়ে যায় গভীর অন্ধকারে।আর এ আজিমও যদি কোন কারনে হারিয়ে যায়, সেদিন হবে আমার জীবনের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের দিন। -লেখকঃ অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক, বানারীপাড়া, বরিশাল