আপাতত পাকিস্তানের ভারতীয় দূতাবাসেই থাকছেন উজমা

31

ফজলুল বারীঃ ” সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করায় এমনিতেই ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে। আক্ষরিক অর্থেই দুই দেশের নাগরিকদেরও সম্পর্কও যে তলানিতে তার প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক এক ঘটনায়। পাকিস্তানি এক যুবকের বিরুদ্ধে জোর করে ভারতীয় মহিলাকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকী তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন ওই মহিলা। অবশেষে নিজের দেশে ফিরতে চলেছেন তিনি। পেশায় চিকিৎসক উজমার মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন আলাপ হয় তাহির আলি নামে এক পাকিস্তানি যুবকরে সঙ্গে। সেসময় দু’জনের খানিকটা সখ্যতাও হয়েছিল। কিন্তু সে সম্পর্কের যে এমন বিষময় পরিণতি হতে পারে তা বোধহয় ভাবেননি উজমা। এরপর পাকিস্তানে বেড়াতে গেলে তাহিরের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তখনই তাঁকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি উজমার। ভয় দেখিয়ে জোর করে বিয়ে করে তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন উজমা।
তাহিরের খপ্পর থেকে বাঁচতে ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন উজমা। তাহিরকে তিনি বলেন যে, তাঁরা দু’জনে দিল্লি যাবেন। এবং সে কারণে ভিসা করা দরকার। সেইমতো পাকিস্তানের ভারতীয় দূতাবাসে পৌঁছান তাহির ও উজমা। দূতাবাসকে অবশ্য আগে থেকেই পুরো ঘটনা জানানো ছিল। এরপরই উজমাকে তাহিরের থেকে আলাদা করা হয়। পাল্টা হিসেবে তাহিরও নিখোঁজ ডায়রি করে। যদিও শেষমেশ উজমাকে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পাক আদালতে দেওয়া বয়ানে উজমা জানান, তাহিরের বন্ধু তিনি ছিলেন ঠিকই। কিন্তু তাহিরকে বিয়ে করতে তিনি পাকিস্তানে যাননি। তাহির তাঁকে ঠকিয়েছিলেন বলেও দাবি উজমার। তিনি জানান, তাহির যে স্কুলের গণ্ডিটুকুও পেরতে পারেনি এবং মালয়েশিয়ায় সে যে শ্রমিকের কাজ করত, এই সব তথ্যই লুকিয়েছিল তাহির। পাকিস্তানে দেখা হলে উজমাকে জোর করে বিয়ে করে তাহির। এমনকী তারপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলেও দাবি করেছেন ডাঃ উজমা। আপাতত পাকিস্তানের ভারতীয় দূতাবাসেই থাকছেন উজমা। তাঁকে নিরাপদে দিল্লি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”-লেখকঃ প্রবাসী সাংবাদিক