আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর মেসির

58

যুগবার্তা ডেস্কঃ কোপা ফাইনাল খেলা শেষ করেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন লিওনেল মেসি। মাত্র ২৯ বছরেই অবসর! হ্যাঁ। আজ বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে নিউ জার্সিতে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরেছেন। চিলি টাইব্রেকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। এরপর অবসরের ঘোষণা দেন মেসি।
“আমার জন্য জাতীয় দলে খেলা শেষ। আমার যতটা করা সম্ভব ছিল করেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা নিদারুণ বেদনার-” জানিয়েছেন মেসি।
“আমি মনে করি, এটা সবার জন্যই উত্তম। প্রথমত আমার জন্য, তারপর সবার জন্য। আমি মনে করি, অনেক মানুষ যারা সন্তুষ্ট নয় এটাই চেয়েছিল। আমরাও ফাইনালে পৌঁছে জিততে না পারায় সন্তুষ্ট নই।”
মেসি বলেন, “আমি আমার পেনাল্টি মিস করেছি। ওটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যান মেসি। সেখানে জার্মানির কাছে হারেন। ২০১৫ কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছিলেন। সেখানে এই চিলির কাছেই টাইব্রেকে হেরেছিলেন। আবার হারলেন কোপার শতবর্ষ উদযাপনের বিশেষ আসরে। টানা তিনটি আসরের রানার্স আপ হওয়ার কষ্ট নিয়ে জাতীয় দলকে বিদায় বলে দিলেন আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডের মালিক মেসি। তিন আসরেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
চিলির সাথে এই ফাইনাল জিতলে ২৩ বছর কোপার শিরোপা জিততে না পারার দুঃখ ঘুচতো আর্জেন্টিনার। সেই সাথে প্রথম কোনো বড় আসরের শিরোপা উঠতো মেসির হাতে। কিন্তু মেসির ভাগ্য লিখন যেন ট্র্যাজিক হিরোর! নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল হয়নি। ম্যাচে ১২০ মিনিটে গোল করতে পারেনি কোনো দল। এরপর পেনাল্টি শুট আউট। ভাগ্যের লড়াই। সেখানে মেসি প্রথম শটটি নিতে গেলেন। এবং বাইরে মারলেন।
এরপর মেসির অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, শিরোপাটা ওখানেই হারিয়ে ফেলার আতঙ্কে ডুবে গেছেন। কিছুক্ষণ পর বিগলিয়ার শট মেসির বার্সেলোনা সতীর্থ চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো ঠেকিয়ে দিলেন। পরের শটে চিলি গোল করে শিরোপা ধরে রাখার উৎসবে মাতে। রেকর্ড ৫বার ব্যালন ডি’অর জেতা মেসি আবারও দ্বিতীয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কখনোই প্রথম হতে না পারার কষ্ট নিয়েই বিদায় নিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল যাদুকর।
সেই ১৯৯৩ সালে এই কোপা আমেরিকাতেই শেষ বার বড় কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এর পর থেকে কেবল অপেক্ষায় দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দেশকে শিরোপা জেতানোর চাপও বাড়ছিল অধিনায়কের উপর। পদত্যাগের ঘোষণা না দিলে হয়তো টাইব্রেকারে গোল না পাওয়ার প্রবল সমালোচনা থেকে রেহাই পেতেন না মেসি।
২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পর ২৯ বছর বয়সী মেসি ১১২টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। সেমি-ফাইনালে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে যুক্তরাষ্ট্রের জালে বল পাঠিয়ে গাব্রিয়েল বাতিস্তুতার রেকর্ড ভেঙে করেছেন দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫টি গোল। কিন্তু বার্সেলোনার হয়ে ২৮টি শিরোপা জেতা মেসিকে হতাশায় ডুবিয়েছে জাতীয় দলের সাফল্য না পাওয়াটা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেছিলেন, কোপা আমেরিকায় বিশেষ এই আসরই মেসির জন্য শেষ সুযোগ। এই চিলির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ চোটের জন্য খেলতে না পারেননি; পরের ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত খেলে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে উঠিয়ে শিরোপা-খরা ঘোচানোর শেষ ধাপে পৌঁছেছিলেনও মেসি। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় তারও দায় আছে।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালের ফাইনালে তেমন জ্বলে উঠতে পারেনি পাঁচ বারের এই বর্ষসেরা ফুটবলার।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট আর অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে চিলির আর্তুরো ভিদালের প্রথম শটই রোমেরো ঠেকিয়ে দেওয়ায় মনে হচ্ছিল গত আসরের ফাইনালের উল্টো ফলটাই হতে যাচ্ছে। কিন্তু দলের প্রথম শটটি নিতে এসে মেসি দেখালেন অমার্জনীয় ব্যর্থতা। বার্সেলোনা সতীর্থ ক্লাওদিও ব্রাভোকে কোনো কষ্ট দেননি, উড়িয়ে মারেন ক্রসবারের উপর দিয়ে। পরে চিলি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন লুকাস বিগলিয়ার শট। আর্জেন্টিনাকে হারতে হয় আরেকটি ফাইনাল। ব্যর্থতার দায় নিয়েই তাই এল অবসরের ঘোষণটা।