আন্তর্জাতিক চাপ আমলে নিচ্ছেন না শেখ হাসিনা

45

যুগবার্তা ডেস্কঃ র্যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোন চাপই আমলে নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের সময় আন্তর্জাতিক অনেক চাপ উপেক্ষা করেছেন। বাকি যুদ্ধাপরাধীদের আদেশের সময়ও তিনি কোন আপস করবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক যুগশঙ্খের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদন বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৌলবাদী দল জামায়াতের সেক্রেটারি আলি আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকরের পর এবার শেখ হাসিনা সরকার বাকি যুদ্ধাপরাধীদেরও ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে চায়।
ইতোমধ্যেই জামায়াতের তিন শীর্ষনেতা,বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাকি রয়েছে মৃত্যুদন্ডদেশ পাওয়া মৌলবাদী জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী,নায়েবে আমির (সহ সভাপতি) মাওলানা আব্দুস সুবহান,সহকারি সেক্রেটারি এটিএম আজহারুল ইসলাম ও মীর কাসেম আলীর। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরও ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই ফাঁসির আদেশ পাওয়া জামায়াতের আমির মতিউর রহমানের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ চতুর্থ দিনের মতো নিজামির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবারও শুনানি হবে বলে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যভাগের আগেই এই নিজামীর আপিলের নিষ্পত্তি হবে। এর বাইরে সুপ্রিম কোর্টে এখন যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুস সুবহান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মীর কাসেম আলী ছাড়াও ৭ জনের আপিলও বিচারাধীন।
সর্বশেষ শনিবার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরসহ ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল। তবে সাঈদীর মামলায় রিভিউ নিষ্পত্তি হয়নি এখনো। আমৃত্যু কারাদ- ভোগ করছেন তিনি।
আপিল বিভাগে নিষ্পন্ন যুদ্ধপরাধ মামলার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ক্রমানুসারে একটির শুনানি শেষে পরবর্তী মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। এই হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামীর পরে জামায়াত নেতা মীর কাসেমের আপিলের শুনানি হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়। রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার বিধান রয়েছে।
পত্রিকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর নিয়ে পাকিস্তানের মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাক হাইকমিশনার সুজা আলমকে সোমবার বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে নাকগলানোর কোনো নৈতিক অধিকার পাকিস্তানের নেই। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক এই দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করায় উদ্বেগ ও বিরক্তি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল।
রবিবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা গভীর উদ্বেগ ও পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে যা দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় পাকিস্তান খুবই বিরক্তবোধ করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আলোকে বাংলাদেশে সংহতি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। ওই চুক্তি ১৯৭১ সালের বিষয়ে সামনে তাকানোর প্রতি তাগিদ দিয়েছে। এটা শুভ কামনা ও সহাবস্থানকে জোরালো করবে।’
পাকিস্তানের এ বিবৃতিতে বাংলাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সোমবার ঢাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার জামায়াতের ডাকা ১২ ঘন্টার বনধের মধ্যে বিক্ষোভ-সমাবেশে শাহবাগ আন্দোলনের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন,‘পাকিস্তান যে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশটি যদি এই অবস্থান অব্যাহত রাখে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যসহ সব ধরনের সম্পর্ক স্থগিত করতে হবে। আমরা সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান যাতে এই ধরনের বক্তব্য না দেয় সেজন্য তাদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করে দেয়া হোক। না হলে আমরা আবারও ঢাকা¯’ পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও করে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ করে দেবো।
এদিক ঢাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও। সমাবেশে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে সাকা-মুজাহিদের পরিবারের মিথ্যাচার জনগণের কাছে সহানুভূতি পাবার জন্য।আমাদের সময়.কম