আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা

যুগবার্তা ডেস্কঃ শ্রীশ্রী দুর্গা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হয়েছে সপ্তমী পূজা। আজ রোববার মহা-অষ্টমী ও কুমারী পূজা।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠে মহা-অষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৬টা ৩ মিনিটে। কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বেলা ১১টায়। সন্ধিপূজা আরম্ভ হবে বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ৬টা ২৭ মিনিটের মধ্যে।
মহা-অষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনসহ কয়েকটি স্থানে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের তন্ত্রধারী স্থিরাত্মানন্দ মহারাজ (নিরঞ্জন মহারাজ) জানান, আমরা যে জগৎমাতার (দেবী দুর্গা) আরাধনা করি তিনি সব নারীর মধ্যে মাতৃরূপে আছেন। এ উপলব্ধি সবার মধ্যে জাগ্রত করার জন্যই কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। দুর্গা মাতৃভাবের প্রতীক আর কুমারী নারীর প্রতীক। কুমারীর মধ্যে মাতৃভাব প্রতিষ্ঠাই এ পূজার মূল লক্ষ্য।
কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে মহারাজ বলেন, দেবী দুর্গার সামনে বসিয়ে ঠিক যেভাবে তার (দুর্গার) আরাধনা করা হয়, একইভাবে কুমারীকে সে সম্মান প্রদান করা হয়। শুধু মাটির প্রতিমা নয়, নারীর মধ্যেও মাতৃভাব আনা হয়।
বিশুদ্ধ স্বভাবের গুণাবলি দেখে একজন নারীকে কুমারী হিসেবে নির্বাচিত করা হয় উল্লেখ করে স্থিরাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, পূজার আগ পর্যন্ত কুমারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ২৯ হাজার ৩৯৫টি স্থায়ী, অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় ৩২৪টি বেশি। আর রাজধানী ঢাকায় পূজা অনুষ্ঠিত হবে ২২৯টি মণ্ডপে।
বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। আর দেবী স্বর্গলোকে বিদায় নেবেন ঘোটক (ঘোড়ায়) চড়ে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে এ পূজার আয়োজন করায় এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধারে যাত্রার আগে শ্রীরাম চন্দ্র দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে। এ জন্যই দেবীর শরৎকালের এ পূজাকে অকালবোধনও বলা হয়।