আজ চারঘাট গণহত্যা দিবস

39

রাজশাহী অফিসঃ ১৩ এপ্রিল, চারঘাট গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী অতর্কিতভাবে চারঘাট আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় তিন শতাধিক নিরীহ মানুষকে নৃসংশভাবে হত্যা করে। সেই থেকে আজকের এই দিনটি স্থানীয়দের কাছে চারঘাট গণহত্যা দিবস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, একাত্তরে চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মূল ক্যাম্প। ১৩ এপ্রিল দুপুরে পাক হানাদার বাহিনী ২০ থেকে ২৫টি গাড়িতে করে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।

কিন্তু পাক সেনাদের ভারি অস্ত্রের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা সে দিন প্রাণপণে যুদ্ধ করেও টিকতে পারেননি। এ সময় চারঘাট বাজার ও পার্শ¦বর্তী এলাকায় হায়েনাদের গুলি বর্ষণে মুক্তিযোদ্ধাসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি শহীদ হন। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পদ্মার পাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও তাদের ঘিরে ফেলে হায়েনারা।

এরপর তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। হানাদার বাহিনী সমবেত জনতার মধ্য থেকে নারী ও শিশুদের বের করে দিয়ে শুধু পুরুষদের কয়েকটি লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেয়। এরপরই গর্জে ওঠে মেশিনগান। প্রাণ হারান থানাপাড়া ও এর আশপাশের গ্রামগুলোর প্রায় দুই শতাধিক পুরুষ।

দিনটি স্মরণে চারঘাট উপজেলা পরিষদে বৃহস্পতিবার সকালে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। থানাপাড়া সোয়ালোজ ডিএস এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

এ সময় তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত বৃথা যায়নি। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমান সরকার একাত্তরের ঘাতক ও রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর করে শহীদদের আত্মাকে শান্তি দিয়েছে।

সংস্থাটির নিবার্হী পরিচালক রায়হান আলী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর অধ্যক্ষ নাজিব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক ফকরুল ইসলাম প্রমূখ।

পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৭৬টি দুস্থ পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক ও ঢেউটিন বিতরণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এরপর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন।