আজ কলঙ্কময় ১৭ আগষ্ট

39

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ কলঙ্কময় ভয়াবহ ১৭ আগস্ট । দেশ ব্যাপি সিরিজ বোমা হামলার ১১তম বর্ষপূর্তি। ২০০৫ সালের এই দিনে মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামালা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। প্রায় একই সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৪শ’টি স্থানে বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা দেশ। ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আতংক। আর এর মাধ্যমে শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল ধর্মীয় উগ্রবাদী এ সংগঠনটি। ওই বোমা হামলায় ২ জন নিহত এবং ২ শতাধিক সাধারণ মানুষ আহত হন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ৬শ’র মতো জেএমবি সদস্যকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১০২টি মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে। এসব মামলার রায়ে ৪৫ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ হয়। এর মধ্যে ২০০৭ সালে শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, খালেদ সাইফুল্লাহ, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হাসান আল মামুনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে উচ্চ আদালতে আপিল করায় ফাঁসি কার্যকর আটকে আছে ৩৯ জঙ্গির। এছাড়া ১১৮ জন জঙ্গিকে যাবজ্জীবন ও ৯৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।ছাড়া বিচারাধীন রয়েছে ৫৯টি মামলা। এসব মামলার দেড় শতাধিক আসামি জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে। পাশাপাশি মামলা দায়েরের পর থেকে অদ্যাবধি পলাতক রয়েছে ৫৮ জন আসামি।

সিরিজ বোমা হামলার পাশাপাশি ওই সময় জঙ্গি এ সংগঠনটি সারা দেশে একটি লিফলেট ছড়িয়ে দেয়। ওই লিফলেটে দেশে কর্মরত বিচারকদের প্রতি দেশে ইসলামী হুকুম কায়েম করার আহ্বান জানানো হয়। আর তাদের এ আহ্বানে সাড়া না দিলে জেএমবি কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে বলে লিফলেটে উল্লেখ করা হয়। তাদের ভাষায়, ‘তাগুতি আইন বাদ দিয়ে বিচারকদের প্রতি ইসলামী আইনে বিচার শুরু করার কথা বলা হয়। জেএমবির লিফলেটে সতর্কবাণী উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারপর আবার হামলা শুরু হবে।’ জঙ্গি সংগঠনটি মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘জঙ্গিদের যেসব মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত, সেগুলো নিষ্পত্তিতে আমরা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আর যেসব মামলা সাক্ষীর জন্য রয়েছে সেগুলোতেও দ্রুত সাক্ষ্য শেষ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলায় সাক্ষী হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত সাক্ষী হাজিরের জন্য পুলিশকে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই সাক্ষীরা আসুক এবং দ্রুত এসব মামলা নিষ্পত্তি হোক।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত জেএমবির অধিকাংশ সদস্যকে ওই সময় পুলিশ ও র‌্যাব গ্রেফতার করেছিল। তাদের অনেকে জামিন নিয়ে বাইরে এসে আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তথ্য আছে। তাদের ফের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্ধারিত দিনে পুলিশ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্ব হচ্ছে- পাবলিক প্রসিকিউটরের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন আগে দায়ের করা এসব মামলার সাক্ষীদের অনেকেই স্থান পরিবর্তন করায় তাদের নিয়মিত হাজির করার বিষয়টি কিছুটা সমস্যা তৈরি করছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ২০০৫ সালে ওই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ১৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ঢাকার ৮টি আদালতে এখনও ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলার কার্যক্রম অনেক দিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। এর মূল কারণ সাক্ষীদের ধারাবাহিক অনুপস্থিতি। ঢাকার আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর ২৫৬ জন সাধারণ সাক্ষীর বিরুদ্ধে আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রেখেছেন।

এসব মামলায় সাক্ষী হিসেবে থাকা দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। সাধারণ সাক্ষীর পাশাপাশি এসব পুলিশ সদস্যও আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। আর এসব কারণে মামলার ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে মনে করছেন আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।