আঙ্গুলের ছাপে সিম পুনঃনিবন্ধন বৈধ: হাইকোর্ট

42

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম ‘যথাযথভাবে’ অনুসরণ করার নির্দেশনা ও গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষায় জোর দিয়ে মোবাইল ফোন নিবন্ধনের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিকে বৈধতা দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের বেঞ্চ মঙ্গলবার নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ এই রায় দেয়।
নির্দেশনায় আদালত বলেছে, সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি যে ১১ দফা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
আর নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার জন্য গ্রাহকের আঙুলের ছাপ নেয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং এর অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে আদালতের পর্যবেক্ষণে।
আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক। বিটিআরসির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ব্যারিস্টার রেজা-ই রাকিব। মোবাইল ফোন অপারেটর রবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফতেমা আনোয়ার।
ভুয়া পরিচয়ে অথবা নিবন্ধন ছাড়া সিম কিনে নানা অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি গ্রাহকদের তথ্য যাচাই ও সিম পুনঃনিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর মোবাইল গ্রাহকদের সিমের তথ্য যাচাইয়ে শুরু হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহারের প্রক্রিয়া।
গত ১৬ ডিসেম্বর সিম নিবন্ধনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হওয়ায় আঙুলের ছাপ না দিয়ে এখন আর নতুন সিম কেনা যাচ্ছে না। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুরনো সিমের পুনঃনিবন্ধন চলছে, যা এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনার কথা বলে আসছে সরকার।
এই পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এস এম এনামুল হক নামের এক আইনজীবী গত ৯ মার্চ হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন, যা ১৪ মার্চ শুনানির জন্য ওঠে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওইদিন আদালত রুল দেয়।
তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নাগরিকদের আঙুলের ছাপ নিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধন কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের ডিজি, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোসহ ১৩ বিবাদীকে এর জবাব দিতে বলা হয়।
এই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার যে আদেশ দিল, তাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কার্যক্রম বৈধতা পেল।
রিট আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি ছিল, দেশের ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে পাঁচটির মালিকানাই বিদেশিদের হাতে। দেশের ৯৭ শতাংশ গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। নিবন্ধনের সময় তারা আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে এবং তার অপব্যবহার হতে পারে।
বায়োমেট্রিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের সংশয় কাটাতে সরকার ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। টেলিকম প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বার বার বলে আসছেন, মোবাইল অপারেটরগুলো আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করবে না। তারা কেবল এনআইডি তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে, গ্রাহকের দেওয়া তথ্য সঠিক কি না।
এরপরও যদি কোনো মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রাহকের আঙুলের ছাপের অপব্যবহার করে এবং তা প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে ওই কোম্পানিকে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সম্প্রতি আশ্বস্ত করেছেন।