আগৈলঝাড়ায় বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সেই নির্যাতিতা নিলিমা পেয়েছে এ-গ্রেড

107

কল্যান কুমার চন্দ,বরিশালঃ নিজের বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সেই নিলিমা কর নিশি ঘোষিত ফলাফলে এ-গ্রেড পেয়েছে। নারী নির্যাতন বন্ধসহ দেশ সেবার জন্য ভবিষ্যতে সে (নিলিমা) উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
সূত্রমতে, উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও স্থানীয় নিপুল করের কন্যা নিলিমা কর নিশি নিজ পরিবারের বিরুদ্ধে লড়ে নিজের বাল্যবিয়ে রুখে দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। এজন্য নিজের বাবা ও কাকাদের হামলায় তাকেসহ তার মা ও বোনকে রক্তাক্ত জখম হতে হয়েছিলো। দীর্ঘদিন তাদের থাকতে হয়েছে হাসাপাতালের বিছানায়। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর সার্বিক মনিটরিং করেছে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওই ঘটনায় নিলিমার বাবা নিপুল কর, কাকা রনি কর ও বাল্যবিয়ে দেওয়ার জন্য ঠিক করা পাত্র অমর সরকারকে বিভিন্ন মেয়াদে জরিমানা ও কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।
নিলিমা জানায়, পরিবারে বাবা, মা, পাঁচ বোন ও এক ভাইকে নিয়ে তাদের সংসার। আর্থিক অনটন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বাবার একার আয়ে ভাই ও বোনদের লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের ভরনপোষন চলে বহু কষ্টে। বড় সন্তান হিসেবে লেখাপড়ার পাশাপাশি নৃত্য ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তাকে (নিলিমা) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ ও গান করে পাওয়া অর্থে নিজের এবং ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হয়।
এরইমধ্যে গত ২৪ এপ্রিল নিলিমার অমতে তার বাবা ও দুই কাকা একই উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের আদিত্য সরকারের পুত্র অমর সরকারের সাথে বাল্যবিয়ে ঠিক করেন। এসময় বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করায় ২৪ এপ্রিল রাতে তার কাকা বিপুল কর ও রনি কর স্কুল ছাত্রী নিলিমা কর, তার মা অনিতা কর এবং বোন নবম শ্রেণীর ছাত্রী ঈশিতা করকে অমানুষিক নির্যাতন করে রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরেরদিন (২৫ এপ্রিল) সকালে আহত নিলিমা ও ঈশিতা বিষয়টি জানাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যাবার পথে র্প্বূ নির্ধারিত পাত্র অমর সরকার ও তার সহযোগীরা দুইবোনকে অপহরনের চেষ্ঠা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এসময় দুই বোনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ধাওয়া করে অমরকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী তারিক সালমনের আদালত অমর সরকারকে ছয়মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, বাল্যবিয়ে ঠিক করায় নিলিমার বাবা নিপুল করকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং বাল্য বিয়েতে বাধ্য করতে শিক্ষার্থীকে মারধর করে মাথা ফাঁটিয়ে দেয়ায় কাকা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ড্রাইভার রনি করকে এক বছরের কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।