আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বিটিসিএল মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের দাবি বাস্তাবায়ন করার আহ্বান

152

যুগবার্তা ডেস্কঃবাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড বিটিসিএল (সাবেক বিটিটিভি)-এর অস্থায়ী চাকরিরত ১৮৫৭ শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি গত ১১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। তাদের ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৫ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় ইস্কাটন গার্ডেনের টেলিযোগাযোগ ভবনের (বিটিসিএল চেয়ারম্যানের কার্যালয়) সামনে এবং ঢাকার বাইরে প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন তুহিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সভাপতি মো. ফয়সাল আলম, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল হালিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম ও (ডিটিআর দক্ষিণ)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন ভূঁইয়াসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মাস্টাররোলে শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর যাবত স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন কর্মসূচি পালনকালে বিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করলেও এই পর্যন্ত তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি। যার কারণে আমরা মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত। ফলে আমাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর আমাদের মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের সাথে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রশাসনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ১৮৫৭ জন মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীকে এক সপ্তাহের মধ্যে অগ্রানোগ্রাম স্থায়ী নিয়োগের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি বিধায় আমরা ধারাবাহিক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
বক্তারা বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। বক্তারা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও তাদের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় কর্মচারীরা শঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বিটিসিএলের ভূমিকা অপরিসীম। বিটিসিএল এর রাজস্ব আয়ে যাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী তারাই আজ সবচেয়ে সুবিধা বঞ্চিত এবং অবহেলিত। আমাদেরকে বঞ্চিত ও অবহেলিত করে মানুষের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানীর অস্থায়ী/মাষ্টাররোল কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। বিটিসিএলের মাষ্টাররোল কর্মচারীরা দীর্ঘ ১৮ থেকে ১৯ বছর গুরুত্বপূর্ণ কাজে জড়িত থাকার পরেও স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত না করায় আজ আমরা আন্দোলনে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে লাভ হবে না। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায় তথা চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল ২৬ জানুয়ারি সারাদেশে আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও আগামী ২৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় রমনা টেলিফোন ভবন (গুলিস্তান টেলিফোন এক্সচেঞ্জ) থেকে বিক্ষোভ সহকারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালিত হবে। আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ ও সরকার আমাদের স্থায়ী নিয়োগের দাবি মেনে না নিলে ৩১ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।