প্রথম দফা হয়েছে অস্ত্রোপচার বৃক্ষমানবের

133

যুগবার্তা ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বৃক্ষমানব হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত সেই আবুলের প্রথম দফা অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে। । প্রাথমিকভাবে তার ডান হাতের অস্রোপাচার হয়েছে। আবুলের চিকিৎসায় গঠিত নয় সদস্যের কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ‘ইতিমধ্যে পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকরা আবুলের দুই পা ও ডান হাত থেকে আঁচিল কেটে নিয়েছেন। নিয়েছেন রক্তও। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য আমেরিকায় পাঠানো হয়েছে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সরল গ্রামের আবুল বাজনদার বলেন, ‘আগের চেয়ে হাত-পা ভারী হয়ে উঠেছে। কমেছে হাত-পায়ের কামড়ানোর যন্ত্রণা। আগের চেয়ে ঘুম ভালো হচ্ছে। হাসপাতালে অন্যদের যা খাবার দেওয়া হয় তাকে সেটাই দেওয়া হচ্ছে। নিজ হাতে খেতে পারি না, চলতে পারি না। নিজেকে অনেক অসহায় মনে হয়।’ আবুল আরও্র জানান, ডাক্তাররা পারেশনের কথা তাকে জানিয়েছে এতে কিছুটা ভয় করছে। তবে রোগটা ভালো হোক সেটাই চাই। ভালো হয়ে আমি কর্মজীবনে ফিরতে চাই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আবুলের চিকিৎসায় গঠিত নয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্য এবং বার্ন ও প্লাস্টিক ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আবুলের বিষয়টি আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ছয় সদস্যের কমিটিকে নয় সদস্যে বর্ধিত করা হয়েছে। গত সোমবার কমিটির সদস্যরা বসেছিলাম। আবুলের রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার শরীরে ক্যান্সার নেই। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার আবুলের অপারেশন শুরু হবে। তার ডান হাতের দুই আঙ্গুল বের করে আনা হবে। এর ফলাফলের ওপর ঠিক হবে পরবর্তী অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া।’ আমেরিকায় আবুলের আঁচিল ও রক্তের নমুনা পাঠানো বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার চিকিৎসকরা সেগুলো পেয়েছেন। তারা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। রিপোর্ট পেতে সময় লাগবে। অপারেশনের পর রোগটা যেন আবুলের শরীরে পুনরায় দেখা না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন আমেরিকার চিকিৎসকরা।’ যত দিন তার চিকিৎসা দরকার তত দিন হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। পরিপূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার সব ব্যয় বহন করা হবে।’
রোগের শুরু যেভাবে ১০ বছর আগে আবুলের এক পায়ের হাঁটুতে আঁচিল ওঠে। পরে অন্য পায়ে। এরপর দুই হাতে আঁচিল ওঠে। আস্তে আস্তে দুই হাতের আঙ্গুল ও দুই পায়ের আঙ্গুলে আঁচিল হয়। এরপর আঁচিল বড় হয়ে শিকড়ের আকার ধারণ করতে থাকে। এভাবে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে শিকড়। এরপর ওঝা-বৈদ্য, ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়ে কোনো কাজ হয়নি। গত ৩০ জানুয়ারি ঢামেক হাসপাতালে আবুলেক ভর্তি করানো হয়।তাকে নিয়ে শুরু হয় গনমাধ্যমে লেখালেখি। নজরে আসে সরকারের। সরকার তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।