আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে বড় বন্যার আশঙ্কা

17

যুগবার্তা ডেস্কঃ আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বড় বন্যার আশঙ্কা করছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্যার আগে বাঁধগুলো মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার এসব তথ্য জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, বেশির ভাগ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে আছে। সাধারণত বড় বন্যা হয় যখন যমুনার পানি, পদ্মার পানি ও মেঘনার পানি একসঙ্গে বাড়ে। সঙ্গে যদি অমাবস্যা থাকে, তখন বন্যার প্রকোপ হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে দ্বিগুণ বৃষ্টি হয়েছে। সে জন্য আমরা সতর্ক করে দিয়েছি যে একটা আশঙ্কা আছে। আর এই বন্যাটা হয় আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে। সেটার জন্য একটা প্রস্তুতি নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে। যেসব বাঁধ দুর্বল, সেগুলোকে ঠিক করতেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জলাবদ্ধতা আর বন্যার পার্থক্য কিন্তু আপনাদের বুঝতে হবে—এ মন্তব্য করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বন্যা অর্থ যেটা আমরা বোঝাই, সেই বন্যা কিন্তু এখনো কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যেটা হচ্ছে, সেটা হচ্ছে বাঁধের বাইরের জায়গা যেগুলো আছে, সেগুলো এবং এই জায়গাগুলো কিন্তু রাখা হয়েছে নদীর পানিপ্রবাহের জন্যই। বন্যা হয়েছে যমুনার যে চরগুলো আছে সেখানে, বন্যা এখন হচ্ছে চট্টগ্রামের দিকে।’
ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিসিরা বন্যার বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। তাঁরা নদীভাঙন রোধ নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা তাঁদের বলেছি, এখন থেকে মন্ত্রণালয়ের যে বরাদ্দ থাকে, তার অর্ধেক ব্যয় করব নদী শাসন কাজে। এ কাজ করতে ডিসিদের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পানি নেমে গেলে বাঁধ সংরক্ষণ করতে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছি।’
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘নদী ভাঙবেই। নদীর একটা জিনিস আমরা বুঝতে চাই না, নদীগুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ৯৩ ভাগ কিন্তু বাংলাদেশের বাইরে। ভারতে কিন্তু বন্যা হয়েছে, বন্যায় লোকও মারা গেছে, বাংলাদেশে কিন্তু সে রকম ঘটনা ঘটেনি। ভাঙনের যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো আমরা দেখছি। ভাঙন প্রতিরোধ করা খুব ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়। যে রিসোর্স আছে, সেই রিসোর্সের মধ্যে করার চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রকল্প নিয়েছি। এর সঙ্গে খনন ও ড্রেজিং যোগ করেছি। আগামী দিনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের অর্ধেক অর্থ ড্রেজিংয়ের জন্য ব্যয় করা হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কার্য অধিবেশনে অংশ নেন।-প্রথমআলো