আখেরি মোনাজাতের অপেক্ষায় লাখো মানুষ

65

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাবলিগ জামাতের ৫১তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। দিল্লির হজরত মাওলানা সা’দ আহমেদ আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত করা হবে বলে ইজতেমা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ভোররাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টঙ্গি এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ।
আখেরী মোনাজাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা ধারণা করছেন। অনেকেই গত দু’দিন ইজতেমায় অংশ না নিলেও আজ বহু আকাক্সিক্ষত আখেরি মোনাজাতে শরিক হয়ে মহান আল্লাহতালার নৈকট্য লাভের ব্যাকুলতায় শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ ছুটে যাচ্ছেন টঙ্গীর তুরাগ তীরে। এদের অনেকেই প্রথম পর্বের মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।
ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার ফজরের নামাজের পর থেকে বয়ান করেছেন ভারতের মাওলানা মো. খোরশেদ আলম। এ সময় বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো. জাকির হোসাইন। পাশাপাশি ইংরেজি, উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষায় তরজমা করা হয়। এ ছাড়া বাদ জোহর ভারতের মাওলানা মো. ফারুক হোসেন, বাদ আছর ভারতের মাওলানা মো. ইউসুফ ও বাদ মাগরিব ভারতের হজরত মাওলানা মো. শওকত আলী বয়ান করেছেন।
বয়ানে তাবলিগ মুরব্বিরা বলেছেন, এই দুনিয়ার আরাম-আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে আখেরাতের কথা চিন্তা করতে হবে। দুনিয়ার জিন্দেগি ক্ষণস্থায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের দিল থেকে সম্পদের এক্বিন বের না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার দিলে কুদরতি এক্বিন পয়দা হবে না। সবাইকে দ্বীনের জন্য মেহনত করতে হবে। আল্লাহর কাছে আমল ছাড়া এ দুনিয়ার জিন্দেগির কোনো মূল্য নেই। বয়ানে আরো বলা হয়, দ্বীনের দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমান মজবুত হয়। ঈমান মজবুত হলে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এ সম্পর্ক গড়ে ওঠলে দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াবি হাসিল হয়।
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্থান সংকুলান সমস্যাসহ মুসল্লিদের বিভিন্ন অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে। এবারই প্রথম দেশের ৩২টি জেলা দুই পর্বে ইজতেমায় অংশ নিচ্ছে। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা আগামী বছর ইজতেমায় অংশ নেবেন।
ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরব্বি মো. গিয়াসউদ্দিন জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মুনাজাতের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মুনাজাত শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুসল্লিদের ভোগান্তি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দিল্লির হজরত মাওলানা সা’দ আহমেদ আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক শনিবার দুপুরে বিশ্ব ইজতেমা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে পুলিশের নির্যাতন করার ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আইজিপি বলেন, ইজতেমা শেষে যেসব বিদেশী মুসল্লি আরো ৪০ দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তাও দেয়া হবে। তাদের অনুরোধ করা হয়েছে তারা যে এলাকায় চিল্লায় যাবেন সে তালিকা যেন পুলিশকে দেয়া হয়। সে এলাকায় পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেবে এবং তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
তাশকিলের কামরায় চিল্লাভুক্ত মুসল্লি : ইজতেমার প্যান্ডেলের উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন খিত্তা থেকে বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক মুসল্লিদের এ কামরায় এনে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। পরে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ মুরব্বিদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকা ভাগ করে তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাবলিগি কাজে পাঠানো হবে।
এ পর্বেও যৌতুকবিহীন বিয়ে হয়নি : রেওয়াজ অনুযায়ী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আছর ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপিস্থতিতে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হতো। এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও ওই বিয়ের আয়োজন হয়নি। ইজতেমা আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বিগত বছরগুলোতে ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপিস্থতিতে বিয়ে হতো। কিন্তু এবার তা হয়নি। ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হলে তা শুধু এই ময়দানে আসা তাবলিগি সদস্যরা ও মুসল্লিরা জানতে পারেন। এলাকার লোকজন এমনকি অনেক স্বজনরাও তা জানতে পারেন না। ফলে ওই বিয়ের আকর্ষণ কমে যায়। এ জন্য এবার থেকে ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ের জন্য তালিকাভুক্ত হলেও তাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ওই বিয়ের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। তাই এবার মাঠে ওই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নেই।
মুনাজাতে অংশ নেবেন ভিআইপিরা : আজ আখেরি মুনাজাতে মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
মুনাজাতে অতিরিক্ত মাইক : আখেরি মুনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদফতর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। গণযোগাযোগ অধিদফতর ইজতেমা ময়দান থেকে আব্দুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগআলী, টঙ্গী রেলস্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করেছে বলে জানিয়েছে জেলা তথ্য অফিস।
বিশেষ ট্রেন : আখেরি মুনাজাত উপলক্ষে রেলওয়ের পক্ষ থেকে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে ২৯টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোগ করা হয়েছে। আখেরি মুনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। টঙ্গী রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্বে টঙ্গী থেকে জামালপুর, আখাউড়া, লাকসাম রুটসহ কয়েকটি বিশেষ ট্রেন চলবে। আজ আখেরি মুনাজাতের দিন টঙ্গী থেকে ঢাকা, লাকসাম, আখাউড়া, ময়মনসিংহ এবং ঈশ্বরদী রুটে একাধিক বিশেষ ট্রেন যাতায়াত করবে। আখেরি মুনাজাতের পরের দিন টিকিটধারী মুসল্লিরা যাতে উঠতে পারেন সে জন্য সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। এ ছাড়া ইজতেমায় আগত যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অতিরিক্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।মাছুম বিল্লাহ, আমাদের সময়.কম