আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন । আজ শনিবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটের দিকে তার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলন শুরু হয়েছে।
এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাকে সাজানো হয়েছে নবরূপে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ, আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে ঢাকা। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ধারাকে সমুন্নত রেখে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে ৬ হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেট অংশ নেয়। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি মিলিয়ে ৫০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দুপুরের খাবারের পর অহরাহ্নে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ প্রত্যেক জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকরা সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করবেন। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল রবিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন। এ অধিবেশনে শুধু কাউন্সিলররা উপস্থিত থাকবেন। প্রথমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেবেন। এরপর ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের সংযোজন-বিয়োজন হবে। দলের তৃণমূলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। এরপর বর্তমান কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মসিউর রহমান এবং সাবেক সচিব রাশিদুল আলমের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রথমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী আহ্বান করবেন। একাধিক প্রার্থী না থাকলে প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে শীর্ষ দুই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এরপর কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে কোনো পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে এবং ভোটের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ব্যালট পেপারও সংগ্রহ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী একাধিক নেতা জানান, সাধারণত কাউন্সিলররা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর অর্পণ করেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয় এবং কাউন্সিলররা তা একবাক্যে সমর্থন করেন। সভাপতির ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেন কাউন্সিলররা। এবারও একই পদ্ধতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন।