আইএস-এর অনুগামীরা এদেশে রয়েছে-মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে আইএস-এর কোন প্রতিষ্ঠানিক শাখা নেই। আইএস এর অনুগামীরা এদেশে রয়েছে। আমেরিকার রাষ্ট্রদূত আইএস আগে বলে ঝড় তুলেছিল, সে বক্তব্য থেকে এখন সরে এসেছে। একটি মহল অনেক দিন থেকেই আমাদের দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে। দেশকে সাম্প্রদায়িকীকরন ও সাম্রাজ্যকীকরনের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি আজ মঙ্গলবার সকালে দলের এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন।
সকাল ১১টায় রাজধানীর শহীদ আসাদ মিলনায়তনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্টি সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস, কমরেড নুরুল হাসান, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড নুর আহমদ বকুল, কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপসহ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বাদশা বলেন, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ক্ষেত্রের এক জটিল সময়ে অতিক্রম করছি। আইএস নামে যে সশস্ত্র সংগঠন ইরাক ও সিরিয়ায় বেশ কিছু ভূখন্ড দখল করে ঐ অঞ্চলে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল এখন তা সেই সীমানা অতিক্রম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাবা বিস্তার করেছে। চরম ধর্মান্ধ মতাদর্শে বিশ্বাসী এই সশস্ত্র সংগঠন বিভিন্ন দেশের তরুণদের আকৃষ্ট করছে। তাদের জিহাদের মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করছে।
গুলশান হলিআর্টিজানে যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ হলো তা গোটা বিশ্বকে বাকরুদ্ধ করেছে। শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে আক্রমণ বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য সহমতকে বিদ্ধ করেছে। বৎসারাধিকাল বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে একের পর এক ব্লগার হত্যা, লেখক হত্যা, প্রকাশক হত্যা, শিক্ষক, পীর, মাজারের খাদেম, পুরোহিত, যাজক হত্যা, আহমদিয়া মসজিদ, শিয়া সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়ে আসছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইএস-এর নামোল্লেখ করে এসব হত্যা-হামলার দায় স্বীকার করা হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে আল-কায়দার নামও উল্লেখ করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন,রাজনীতির পৃষ্ঠপােকতায় সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে এসব মৌলবাদী তৎপরতা আরও বেগবান হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পার্টির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
কর্মসূচীর মধ্যে আগামী ২রা আগস্ট বিকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জঙ্গিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সমাবেশ । ৬ আগস্ট প্রতিটি জেলা শহরে সমাবেশ ও র‌্যালী। ১৪ দল ঘোষিত জঙ্গীবাদ বিরোধী সকল কর্মসূচিতে পার্টির সক্রিয় অংশগ্রহণ। ২০ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মধ্যেকৃষক-খেতমজুর-শ্রমিক, নারী, যুব, ছাত্র গণসংগঠন সমূহের উদ্যোগে ধারাবাহিক জঙ্গীবাদ বিরোধী কনভেনশন । ১৭ আগস্ট কমরেড রাশেদ খান মেনন হত্যাচেষ্টা দিবসে দেশব্যাপী সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালন করবে । ২০ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেজঙ্গীবাদ বিরোধী সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ৭ বিভাগে দিনব্যাপী জঙ্গিবাদ বিরোধী গণসঙ্গীত, নাটক, গান, কবিতা অনুষ্ঠান।
সংবাদ সম্মলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন,জঙ্গীদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাদের সাথে জাতীয় ঐক্য হতে পারেনা। জাতীয় ঐক্যের নাম করে বিএনপি রাজনীতিতে ফিরে আসতে চায়। তারা জঙ্গী নির্মূল চায়না।