আইএসের হুমকি বাড়ছে বাংলাদেশে : বিশেষজ্ঞ মতামত

33

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) হিসেবে পরিচিত জঙ্গি সংগঠনের হুমকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাপী নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে তারা। বৈশ্বিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাসের অস্টিনে অবস্থিত ‘স্টারটফর’ তার ২৬, এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়।

তাদের এই প্রতিবেদনের দুই মাস পর গত ২ জুলাই ঢাকায় ২০ জনকে হত্যা করে আইএস নামধারী জঙ্গি গোষ্ঠীটি। একই সপ্তাহে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ চলাকালে সেখানে থাকা পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় তারা। সেখানে আক্রমণকারীসহ মোট ৪ জন মারা যায়, আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। এই আক্রমণের দায় কেউ গ্রহণ করেনি। তবে গুলশানে রেস্টুরেন্টে আক্রমণের পর আইএস বাংলাদেশে আরো সহিংস কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে।

স্টারটফোরের কৌশলগত বিশ্লেষক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট স্টুয়ার্ট জানান, নিশ্চিতভাবেই সেখানে (বাংলাদেশে) জিহাদিদের জন্য একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

অবশ্য বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার। তারা জানিয়েছে, আইএস নয়, স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এই কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য। কিন্তু এমন কথা মানতে নারাজ স্টুয়ার্ট। তিনি জানান, আইএস বা তাদের প্রতিযোগী জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদা ছাড়া এমন হামলা করা সম্ভব ছিল না।

আইএস গত কয়েক বছর ধরে মুসলিমদের লক্ষ্য করেও তাদের হামলা চালাচ্ছে। বিশেষত শিয়াদের লক্ষ্য করে। তাই বাংলাদেশের শোলাখিয়ায় হওয়া হামলা আইএসের বলে দাবি করেন স্টুয়ার্ট। তিনি বলেন, ‘মুসলিমদের ওপর হামলা করা আল-কায়েদার সমর্থকদের সম্পূর্ণ নিষেধ।

এ সময় তিনি আরো জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদা ও আইএস নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে বাংলাদেশে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক লেকচারের ও একজন ফেলো কামারন বোখারি বলেন, লক্ষ্য হিসেবে বাংলাদেশে যথেষ্ট উপযোগী। এর মাধ্যমে আইএস বলতে পারবে, ‘দেখো আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় পৌঁছে গেছি।’

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদার শক্ত অবস্থান রয়েছে। আইএস সেখানে নিজেদের অবস্থান নিলে আল-কায়েদা বিষয়টি সহ্য করবে না।

আর এখানে শঙ্কা প্রকাশ করে স্টুয়ার্ট বলেন, আমার ধারণা বাংলাদেশে আইএস ও আল-কায়েদা তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে পরস্পরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করবে।

স্টুয়ার্ট বলেন, বাংলাদেশে আইএসের স্থানীয় সমর্থকরা সম্ভবত হামলা চালাবে। কিন্তু তাদের বোমা বা আধুনিক অস্ত্র বিষয়ে খুব একটা জ্ঞান নেই। ফলে তাদের প্রতিটি আক্রমণে মৃত্যুর পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। তার থেকেও বড় বিষয়, সিরিয়া বা ইরাক থেকে বাংলাদেশে ফেরত যাওয়া আইএস যোদ্ধারা দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে।

স্টারটফর জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা মৌলবাদী কার্যক্রমের কারণে আইএসের জন্য উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ইসলামিক স্টেটের জন্য, এমন অনুসারীদের থেকে নিজেদের লোক খুঁজে নেয়াটা খুব সহজ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে চলমান সমস্যাগুলোর কারণে দেশটি আইএসের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি সর্বদা স্থানীয় ক্ষোভকে পুঁজি করে তাদের সহযোগীদের বেছে নেয়। যখন কোন স্থানে প্রচণ্ডভাবে সরকার বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠে, আইএসের জন্য তা হয় আশীর্বাদ স্বরূপ।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের পররাষ্ট্র নীতি, নিরাপত্তা ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ক প্রধান গবেষক ফাইজ সোবহান বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশ। তাই আইএস নিশ্চিতভাবেই এখানে পরীক্ষা করে দেখতে চাইবে, এ দেশের মানুষ তাদেরকে কিভাবে গ্রহণ করছে।

সিবিসি নিউজকে তিনি আরো জানান, যেহেতু আইএস তাদের মূল যুদ্ধক্ষেত্রে (সিরিয়া-ইরাক) এখন বারবার পরাজিত হচ্ছে। তাই তারা বিকল্প অবস্থানের জন্য স্থান খুঁজছে। ইত্তেফাক