অসহায় পুল শিক্ষকদের অবিলম্বে নিয়োগ দেওয়ার দাবি

200

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে পুলভুক্ত আড়াই হাজার শিক্ষককে অবিলম্বে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ (পুল) শাখা কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। আজ ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভায় নেতৃবৃন্দ এই আহ্বান জানান। সাধারণ সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল-আমিন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম (শাফি), কেন্দ্রীয় নেতা মো: মনিরুজ্জামান মনির ও মো: শাজাহান সরকার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন অসহায় মানবেতর জীবন যাপনকারী শিক্ষকদের পক্ষে সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে পুলভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। আমদের পুলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করতেও নির্দেশ আদালত। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জারিকৃত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন ও একইসঙ্গে পুলভুক্ত শিক্ষকদের শূন্য পদে নিয়োগের নির্দেশ দেয় আদালত।
নেতৃবন্দ বলেন ২০১১ সালের ৪ আগস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। এতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৭২০ জন উত্তীর্ণ হন। এদের মধ্য থেকে ১২ হাজার ৭০১ জনকে সরাসরি শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়। বাকি ১৫ হাজার ১৯ জনকে পুলভুক্ত করে রাখে সরকার। যদিও ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পুলভুক্তের বিষয়টি উল্লেখ করা ছিল না। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভঙ্গ করে ২০১২ সালে শিক্ষক পুল গঠনের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে পরিপত্র করে ২০১৪ সালে শিক্ষক পুল নামে নীতিমালা গঠন করে। ওই নীতিমালায় ছয় মাসের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রার্থীদের স্বাক্ষরও নেয়া হয়। কিন্তু তাদের নিয়োগ না দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আমরা পুল শিক্ষকরা এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রথম দফায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করি পুলভুক্ত ৫২ জন শিক্ষক। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে সরকারকে। পরবর্তীকালে ওই রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় আরো ৭২টি রিট মামলা দায়ের করে বিভিন্ন জেলার পুলভুক্ত প্রায় আড়াইহাজার শিক্ষক পক্ষভুক্ত হন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি